ভোটারদের প্রতি প্রতিশ্রুতি
‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ ব্যাখ্যায় যা বললেন তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দুর্নীতির অভিযোগ, বিএনপির শাসনামল এবং আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের প্রতি দলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির শাসনকালে বাংলাদেশের ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ভোটারদের আশ্বস্ত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলা তারেক রহমানকে প্রশ্ন করে, বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিলো। বিশেষ করে দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ভোটারদের কীভাবে আশ্বস্ত করবেন যে এ ধরনের পরিস্থিতি আর হবে না?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মাত্র দুই-তিন মাসের মাথায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুর্নীতির সূচক প্রকাশিত হয়। তিনি যুক্তি দেন, এ সূচকটি মূলত ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের শাসনকালের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিলো। তিনি বলেন,
নতুন নির্বাচিত একটি সরকারের পক্ষে মাত্র তিন মাসে দুর্নীতির সূচকে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলা সম্ভব নয়।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন,
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনকালে টিআইবির রিপোর্ট অনুযায়ী দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে উন্নতি লাভ করেছে। তিনি স্বীকার করেন, দুর্নীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি, কারণ এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা নির্মূল করতে সময় এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
ভোটারদের প্রতি আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়, তাহলে দলটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে এ প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে হবে।
তারেক রহমানের এ বক্তব্য আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্নীতির মতো জটিল ইস্যুতে জনগণের আস্থা অর্জন করতে বিএনপিকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ নীতির প্রয়োগ করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























