‘দেশে ফিরছেন অভি’- খবরে তোলপাড় বরিশাল
দীর্ঘ ২৩ বছর পর দেশে ফিরছেন নব্বইয়ের দশকের আলোচিত ছাত্রদল নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি। তার দেশে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে। একসময় এ আসনের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অভি।
বর্তমানে কানাডায় বসবাসরত অভি টেলিফোনে জানিয়েছেন, নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন। তবে দেশে ফিরে আবারও নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু জানাতে চাননি তিনি। তার ভাষায়, দেশে ফিরবো—এটাই আমার কাছে প্রথম অগ্রাধিকার। নির্বাচনে অংশ নেয়া দ্বিতীয় বিষয়।
১৯৯০–এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন গোলাম ফারুক অভি। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে জয়ী হয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি হন তিনি। সে সময় তিনি হারান বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে।
সংসদ সদস্য হিসেবে অভি বরিশাল অঞ্চলে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তার সময়ে উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন গ্রামীণ এলাকায় নির্মিত হয় অসংখ্য সেতু, কালভার্ট ও নতুন সড়ক, যার ফলে উপজেলার ভেতর গড়ে ওঠে একটি পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। পরে আসন পুনর্গঠনের মাধ্যমে উজিরপুরের সঙ্গে বানারীপাড়া যুক্ত হয়ে গঠিত হয় বর্তমান বরিশাল-২ আসন।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেরে যান অভি। এরপর রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও একাধিক মামলার জেরে ২০০২ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। গত ২৩ বছর তিনি কানাডায় প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের পর দেশে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে এবার ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক এ সংসদ সদস্য।
অভি বলেন,
জুলাই বিপ্লবের পর দেশে এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আমি মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে ফিরতে চাই। আমার জন্মভূমিতে ফিরে মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই।
তিনি জানান, বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি। মনোনয়ন বা জোট নিয়ে এখনো কিছু ভাবিনি, বলেন অভি। ইসলামপন্থি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, আমি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাসী।
অভির দেশে ফেরার খবরে বরিশাল-২ আসনে নতুন করে রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে আসনের সমীকরণ বদলে যাবে। বর্তমানে এ আসনে জামায়াত ইতিমধ্যেই প্রার্থী দিয়েছে, আর বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন সান্টু ও কাজী দুলাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সহ-পরিবেশ সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আকতার হোসেন এবং সাবেক ছাত্রনেতা সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী দুলাল হোসেন বলেন, ২৩ বছর আগের বাংলাদেশ এখন আর সে জায়গায় নেই। ভোটারদের রুচি, চিন্তাভাবনা বদলে গেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো অভিকে চেনেন না। আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাসী—ধানের শীষের প্রতি ভালোবাসাই আমাদের জয় এনে দেবে।
বরিশাল রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—অভি ফিরলে কি আবারও মাঠ কাঁপবে?
সবার দেশ/কেএম




























