জামায়াতের নিন্দা
৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।
সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের এ সিদ্ধান্ত জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেয়ার শামিল বলে মনে করে দেশবাসী।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়াই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু সরকার সে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এ পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আরেকটি অপচেষ্টা। জনগণের ভোট ও মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এ সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ছিলো বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, গণহত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেয়া। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে জনগণের প্রত্যাশা ছিলো স্থানীয় সরকারে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে।
কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ৪২টি জেলা পরিষদে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, এ পদক্ষেপ নৈতিকভাবে গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে জেলা পরিষদগুলোতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























