Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

দায় খুনি হাসিনার—আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের অভিমত

মিথ্যা মামলার কারাবাস খালেদা জিয়াকে মৃত্যমুখে ঠেলে দেয়

মিথ্যা মামলার কারাবাস খালেদা জিয়াকে মৃত্যমুখে ঠেলে দেয়
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ২৫ মাসের কারাবাসের কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন গুরুতরভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে—এমনটাই মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ নির্যাতনের জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক মাফিয়া হাসিনা।

আইনজীবীদের অভিযোগ, জিয়া পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে ব্যবহার করেন। পছন্দের বিচারকদের পুরস্কৃত করা হয় পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দিয়ে, আর সে বিচারকরাই মিথ্যা ও ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠান। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে পরিকল্পিতভাবে স্লো পয়জনিংয়ের শিকার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

আইন মন্ত্রণালয় ও আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মহানগর বিশেষ দায়রা জজ আদালত খালেদা জিয়াকে ১২ বছরের সাজা দেন। পরে হাইকোর্ট সে সাজা বাড়িয়ে ১৭ বছর করেন। আইন বিশেষজ্ঞরা পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসনের নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও।

আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অনুগত ব্যক্তিদের বিচারকের আসনে বসিয়ে এবং পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে এ রায় আদায় করে নেয়। তাদের মতে, আলোচিত পাঁচ বিচারপতি নির্লজ্জভাবে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে খালেদা জিয়ার মামলাকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও উঠেছে।

আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন, দুদক যে নথিপত্র দাখিল করেছে সেগুলো ছিলো হাতে লেখা, ঘষামাজা করা ও স্বাক্ষরবিহীন। কোনও মূল নথি উপস্থাপন করা হয়নি। মামলার ৩২ জন সাক্ষীর কেউই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেননি। বরং সোনালী ব্যাংকে রাখা এফডিআরে ২ কোটি টাকা সুদে-আসলে বেড়ে ৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছিলো, যা আত্মসাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে। জাল নথি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছেন আইনজীবীরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কয়েকজন সাক্ষীকে অবসর থেকে ফিরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি দেয়া হয়, যাতে তারা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সাক্ষ্য দেন।

২০১৫ সালের জুনে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মিথ্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ওই আদালত খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। এরপর টানা ২৫ মাস তাকে কারাগারে রাখা হয়। কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এ ঘটনাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিহিংসামূলক ও ঘৃণ্য কাজ হিসেবে দেখছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গত ১৫ বছরে দুদক ও বিচার বিভাগ আওয়ামী লীগ সরকারের দাসে পরিণত হয়েছিলো। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোনও টাকা আত্মসাৎ করেননি। বরং ৩ কোটি টাকা বেড়ে ৬ কোটি হয়েছিলো। শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত ত্রুটির অজুহাতে তাকে সাজা দেয়া হয়, আর শেখ হাসিনা সারা দেশে প্রচার করেন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, একই সময়ে দেশে ব্যাংক লুট, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি, ক্ষমতাবানদের পিয়নের শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া—এসব প্রকাশ্যেই স্বীকার করা হয়েছে। অথচ এসব অপরাধ আড়াল করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রতিটি আদালতেই এ মামলার শুনানিতে দেখা গেছে বিচারকদের একমাত্র লক্ষ্য ছিলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে তাদের নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা। তার মতে, এ রায়ের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলসহ একাধিক সিনিয়র আইনজীবী মনে করেন, নিরপেক্ষ বিচার হলে এসব মামলা আদালত গ্রহণই করত না। তাদের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেয়া এ সাজাই শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার জীবনকে বিপন্ন করেছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সোনারগাঁয়ে ছিনতাইকারীদের সিএনজিতে জনতার আগুন
ইরানবিরোধী হামলায় সৌদি আকাশসীমা নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা রিয়াদের
নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারি
বিমান পরিচালনা পর্ষদে সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি
একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছরের মুনাফা পাবেন না
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা স্থগিত
দীর্ঘ বিরতির পর কুমিল্লায় তারেক রহমান
সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা
নাটোরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান বাগাতিপাড়ার সামসুন্নাহার ও তৌহিদুল হক
ছাত্রীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পলায়ন, মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ
নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ২
মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশের চালান আটক
ইরান বিক্ষোভ দমনে সফল, সরকারপন্থিদের দখলে রাজপথ
রংপুরে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু মিছিল, সংখ্যা বেড়ে ৮
চেম্বার আদালতেও হতাশ হাসনাতের আসনের বিএনপি প্রার্থী মুন্সী
বিএনপি নেতা সাজু বহিষ্কার
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের সাক্ষাৎ
আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির মুক্তি
ইরানে হস্তক্ষেপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেবেন খামেনি