ইনসাফ, মর্যাদা ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি
‘নতুন বাংলাদেশ’ এর রূপরেখা জামায়াত আমিরের
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন কেবল টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা ও টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও মর্যাদার ভিত্তিতে গড়া রাষ্ট্র—যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবে শূন্য সহনশীলতা নীতি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই এ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিলো সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সে প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
গত ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থাকে ব্যর্থ ও কর্তৃত্ববাদী আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এ সময়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে জনগণ আবারও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক, অনিরাপদ ও স্বল্প আয়ের কাজে যুক্ত।
তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে কার্যকর রূপান্তর ঘটাতে পারছে না এবং নারীরা সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন। কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সক্ষমতা তৈরি করাই হওয়া উচিত অর্থনৈতিক সাফল্যের মানদণ্ড।
নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নারীদের পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন।
সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের নজির রয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক এবং সরকারি-বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি।
শেষে তিনি বলেন, ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা, প্যানেলিস্ট ও বিশেষজ্ঞদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
সবার দেশ/কেএম




























