Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২১, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

সে অবিচারই স্বাধীনতার পথে নিয়ে যায়

পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ হয়নি: জামায়াত আমির

পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ হয়নি: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে ২৩ বছর একসঙ্গে থাকার সময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ন্যায্য ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেনি। সে বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধেই সত্তরের নির্বাচন ছিলো এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ তৈরি করে দেয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, রাজনৈতিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছিলো। এ বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। এরপর অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চব্বিশের সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখে সেনাবাহিনীর ভূমিকা না থাকলে আজকের বাংলাদেশে অনেক কিছুই ভিন্ন হতে পারতো এবং তিনি নিজেও এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারতেন না।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রামের পেছনে কোনও একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। তার মতে, পুরো জাতি, বিপ্লবী জনগণই এ ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, পরিবর্তন, বিপ্লব কিংবা গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো দল এককভাবে দাবি করতে পারে না; এটি জনগণের সম্মিলিত অবদান।

নির্বাচনী ব্যবস্থার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এমন একটি নির্বাচন প্রয়োজন, যেখানে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়া ভোট দিতে পারবেন এবং জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে। এ ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অতীতের মতো কোনও সমঝোতার বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন তিনি চান না বলেও মন্তব্য করেন।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১৯০ বছরের শোষণমূলক ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে উপমহাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছিলো। কিন্তু পাকিস্তান আমলেও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়নি। সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের নীরব প্রতিরোধই ছিলো স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, যা শেষ পর্যন্ত সত্তরের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

কোলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে নিহত ২০, যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়াবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স: বাণিজ্যমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ডে তালাক বন্ধ হয়েছে: চিফ হুইপ
বিক্ষোভে উত্তাল প্যারিস, আটক শতাধিক
হৃদয় ভেঙে দিয়েছে, মায়ের আর্তনাদ সহ্য করতে পারছি না-তৌসিফ মাহবুব ও ইরফান সাজ্জাদ
পুলিশে আসছে বড় নিয়োগ, ২৪৬৭৭ পদ সৃষ্টির উদ্যোগ
বনানীতে ‘জলজ’ থিমে দুর্গোৎসব
ফিফা সভাপতি ঢাকায় আসছেন আজ
অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, উঠেছে আইনি প্রশ্ন
শার্শায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৩
ছাত্রদলনেতা হত্যায় দণ্ডিতরাও যুবদলের কমিটিতে, বিতর্কিত অর্ধশতাধিক
রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
ক্লিনটন-ওবামার বিরুদ্ধে চাইলেই বড় পদক্ষেপ নিতে পারি: ট্রাম্প
গাজীপুরে ইবনে সিনার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ এনসিপির তিন দাবি
রাজনীতিবিদরা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বিকৃত করে লিখেছে: স্পিকার
বিকৃত পর্নো ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি
রিসোর্টের আগুনে একই পরিবারের ৬ জন নিহত