আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ওবায়দুল কাদের
কোলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে এখন আর রাজনীতির মাঠ কাঁপানো দাপট নেই। নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, দলের ভবিষ্যৎ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ভারতের আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় তিনি বলেছেন, বিদেশি মহাশক্তি ভারত বা আমেরিকা এখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে না।
তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বেই দল চলতো, অন্য নেতারা দায়িত্ব ভুলে আরাম-আয়েশে মগ্ন ছিলেন, যা আজকের পরিস্থিতির মূল কারণ।
কাদের বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের রাজনীতি পরিচালনায় নিয়োজিত থাকলেও আমরা এখন রাজনৈতিক দিশাহীনতায় পড়েছি। বিদেশের শক্তিগুলো আমাদের ফের ক্ষমতায় আনার বিষয়ে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইউরোপ ও আমেরিকা এখন বড় আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের অনেক নেতা ইতিমধ্যে কোলকাতা ছেড়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে জীবনযাপন করার পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সশরীরে উপস্থিতি বা অন্তত একটি ভিডিও বার্তার আশায় বুক বেঁধেছিলেন কর্মীরা, ভেবেছিলেন পাশা উল্টে যাবে এক নিমেষে। কিন্তু সশরীরের বদলে মিললো কেবল এক বিষণ্ণ অডিও বার্তা, যেখানে ড. ইউনূসের ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝাড়তেই কেটে গেলো সবটুকু সময়। কোনও দিশা না পেয়ে এখন কোলকাতার আতিথেয়তা ছেড়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার কনকনে ঠান্ডায় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেয়ার ছক কষছেন নির্বাসিত নেতারা। তারা বুঝে গেছেন, রাজনীতির হাটে তাদের গুরুত্ব এখন তলানিতে। কেউ আর তাদের নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছে না, এমনকি খোদ ইতিহাসও যেনো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাদের আর ভারতের কোলকাতার নিউ টাউনে থাকতে চান না। ফিরতে চান বাংলাদেশে। কিন্তু ফেরার কোনও উপায় দেখছেন না আওয়ামী লীগের এ নেতা। তার মতে, ভারতের ওপর আমরা নির্ভর করে আছি কিন্তু ভারত বা আমেরিকার মতো বড় শক্তিগুলো আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ভাবছে না। আমাদের ক্ষমতায় ফেরানো তাদের কাছে খুবই নগণ্য ব্যাপার। ইউরোপ-আমেরিকা এখন বড় বড় বিষয় নিয়ে ভাবছে। তারা আমাদের নিয়ে ভাবছেই না।
এভাবেই রীতিমতো ক্ষোভ ঝরে পড়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতা ও বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠে। আওয়ামী লীগ এখন ফিরতে পারবে না বলেও তিনি মত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, হাসিনার শক্তিতে দলটি চলছিলো। আওয়ামী নেতারা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেনি। তাই আমরা এ মুসিবতে পড়েছি। জানি না কবে এর হাত থেকে রেহাই পাবো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, কোনো দিশা পাচ্ছেন না পালিয়ে আসা নেতারা। এবার তারা ভারত ছেড়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় বাকি জীবন কাটানো যায় কি না, সে চেষ্টায় রত। অনেক নেতাই কোলকাতা ছেড়ে একদম নির্বাসিত জীবনে চলে যেতে চাইছেন। তারা বুঝে গেছেন, আওয়ামী লীগ এখন সবার কাছে গুরুত্বহীন। কেউ তাদের নিয়ে ভাবে না।
সবার দেশ/কেএম




























