Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৫৮, ২৭ মে ২০২৫

ভারতে সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি

বাথরুমে পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন ওবায়দুল কাদের

বাথরুমে পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন ওবায়দুল কাদের
ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ আগস্ট, ২০২৫—বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতার বিস্ফোরক অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন। সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকার এক বাসার বাথরুমে টানা পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন। 

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো কোনও মিডিয়ায় মুখ খুললেন এ প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। সাক্ষাৎকারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

সেদিনের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে কাদের বলেন, দেশ ও বিদেশে, এমনকি ভারতেও সবার জানা, ৫ আগস্টের দিনটা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক ছাত্র অভ্যুত্থানের। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, সেদিন প্রাণে বেঁচে গেছি। আমার নিজ এলাকা, নিজ বাসা এড়িয়ে পাশের এক বাসায় আশ্রয় নিই। চারদিক থেকে মিছিল-আক্রমণের মধ্যে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, এটি শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং লুটপাটনির্ভর এক ধরনের সংঘবদ্ধ উচ্ছৃঙ্খলতা।

তিনি জানান, যে বাসায় তিনি লুকিয়েছিলেন, সেখানে হামলাকারীরা জানতো না তিনি রয়েছেন। আমার বাসা তারা লুটে নেয়, কিন্তু যে বাসায় আমি আশ্রয় নিয়েছিলাম সেখানেও হামলা হয়। লোকজন ঢুকে পড়ে, ভাঙচুর শুরু করে। আমি স্ত্রীসহ বাথরুমে আশ্রয় নিই এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে আত্মগোপন করি।

কাদের বলেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিলো যে বাথরুমের বেসিন-কমোড পর্যন্ত লুট করতে উদ্যত হয় তারা। আমার স্ত্রী তাদের বোঝাতে চেষ্টা করছিলেন আমি অসুস্থ। একসময় তারা জোর করে প্রবেশের হুমকি দেয়। তখন আমি স্ত্রীকে বলি, দরজা খুলে দাও। সাত-আটজন যুবক ঢুকে পড়ে। একজন বলল, নেত্রী (শেখ হাসিনা) পালিয়ে গেলেন, আপনি গেলেন না কেনো? আমি কোনো উত্তর দেয়ার আগেই তাদের আচরণ বদলে যায়। কেউ কেউ আমার ছবি তোলে, সেলফি নেয়।

তিনি বলেন, অনেকেই আমাকে চিনতো। কেউ কেউ তখন বললো, আমাকে হয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো জনতার হাতে। তখন আমার মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছিলো। পরে তারা আমাকে একটি কালো মাস্ক ও লাল ব্যাজ পরিয়ে রাস্তায় বের করে। হঠাৎ একটি খালি ইজিবাইক এসে যায়। ভাগ্যক্রমে আমরা তাতে উঠে পড়ি। ওরা সবাই বলে, ‘চাচা-চাচি অসুস্থ, হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ এইভাবেই তারা আমাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।

তিনি বলেন, ওই দিন আমি নিশ্চিত ছিলাম—আমার আর বেঁচে থাকার কথা নয়। সে দিনের বেঁচে যাওয়া আমার জন্য এক অলৌকিক সৌভাগ্য।

এরপর তিন মাস বাংলাদেশেই ছিলেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, আমি তখন ভেবেছিলাম কিছু একটা সংগঠিত করা যায় কিনা। শ্রমিক অসন্তোষ, গার্মেন্টস সেক্টরের ক্ষোভ—এসব লক্ষ্য করছিলাম। পরে আমার নামে অসংখ্য মামলার পরামর্শ এলো দেশ ছাড়ার। স্বাস্থ্যগত কারণেও সে সিদ্ধান্ত নেই।

১৯৭৫ সালের পরে ভারতে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ৩ নভেম্বর জেলহত্যার পরে কলকাতায় নয় মাস ছিলাম। পরে দেশে ফিরে গণফাঁসার সময়ে গ্রেফতার হই। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও জেলে ছিলাম।

ভারতে আসার পর কোনো সমস্যা হয়নি কি না, এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ছেলেগুলো আমাকে কোথাও পৌঁছে দিয়েছিল। ওরা আওয়ামী লীগের হলে চিনতাম। তাই না।

ছাত্রলীগকে অভ্যুত্থান দমনে মাঠে নামানোর বিষয়ে বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। লন্ডন থেকে নিঝুম মজুমদার নামের একজন ইউটিউবার এ অপপ্রচার চালিয়েছেন। আমার বক্তব্যে কোথাও ছাত্রলীগের নাম ছিলো না। আমি সেদিন দলের সেক্রেটারি হিসেবে যা যা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম, তা-ই পালন করেছি। পার্টি অফিস, সেতু ভবন, বিটিভি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছিলো—তখন আমি কি চুপ করে বসে থাকবো?

১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এমন বিস্ফোরক আন্দোলন কেন হলো, সে প্রশ্নে কাদের বলেন, কোটার ইস্যু দিয়ে শুরু হয়ে একদফা দাবিতে রূপ নেয়া এ আন্দোলন একটি ষড়যন্ত্রের ফল। এখানে গোয়েন্দা সংস্থারও কিছু দুর্বলতা ছিলো।

জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে নিজের দায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, নেত্রী যা বলেছিলেন, আমি তা অনুসরণ করেছি। ভুল-ত্রুটি মানুষের হতেই পারে। তবে আমি চাঁদাবাজি করিনি, কমিশন খাইনি, দলের পদবণ্টনে লেনদেন করিনি। এ বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।

মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন, দুর্নীতি—এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নেই কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা দেশকে যা দিয়েছি, তা তুলনাহীন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা অস্বীকার করাই অন্যায়। যারা সমালোচনা করছেন, তারা বাস্তব বিবেচনা না করেই করছেন।

তিনবার সাধারণ সম্পাদক হওয়া ও পরে নীরব থাকার বিষয়ে কাদের বলেন, আমাকে অনেকেই অপছন্দ করে, প্রতিযোগিতা আছে, থাকবে। তবে নীরবতার কারণ আমার শারীরিক অসুস্থতা এবং নেত্রীর নির্দেশ।

তিনি জানান, নেত্রী বলেছিলেন, এখন কিছু লিখো—'৭১, সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে। আমি শেখ হাসিনার ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থাশীল। ভালো-মন্দ যাই হোক, উনি জানেন। তাই আমি চুপ থেকেছি।

কাদের বলেন, এখন দলের অনেকে কে পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হবেন—এ নিয়ে ‘ইঁদুর দৌড়’-এ ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের ভাবা উচিত, কীভাবে জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়া যায়। কে কাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, সেটা দেশে ফিরে স্থির হবে। এখন একে অপরকে কামড়ানোর সময় নয়।

আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, আমরা শতভাগ আশাবাদী। দেশের মানুষের মুখে শুনবেন, শেখ হাসিনা ভালো ছিলেন—এ উপলব্ধি থেকেই আমরা আবার ফিরবো।

ভারত বাদে অন্যান্য দেশ আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ নিয়ে তেমন কিছু বলেনি—এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, আমরা কোনও দেশের সঙ্গে বৈরিতা করি না। ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। আমাদের লক্ষ্য, দেশের মাটিতে ফিরে গিয়ে আমাদের শিকড়ে পুনরায় দাঁড়ানো। ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে বলবো, আমি দেশের মাটিতে গিয়ে যদি কিছু বলতে হয়, বলবো। এখান থেকে বলাটা সঠিক হবে না।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন