Sobar Desh | সবার দেশ দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিনাজপুরের লিচু-কাঠারিভোগ চাল বিশ্ববাজারে নেয়ার অঙ্গীকার

নানিবাড়িতে আবেগঘন তারেক রহমান, চাইলেন ‘ভোট উপহার’

নানিবাড়িতে আবেগঘন তারেক রহমান, চাইলেন ‘ভোট উপহার’
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর দিনাজপুরে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নানিবাড়ির মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নানিবাড়িতে নাতি এলে তাকে খালি হাতে ফেরানো হয় না। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ‘উপহার’ চান তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, আল্লাহর রহমতে বহু বছর পর তিনি তার নানিবাড়িতে এসেছেন। দিনাজপুরের মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানিবাড়ির মানুষ আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না—এ বিশ্বাস নিয়েই আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য লিচু ও কাঠারিভোগ চালকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভাণ্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। কাঠারিভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অনন্য, তেমনি দিনাজপুরের লিচুও বিশ্বমানের।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও লিচু প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দিনাজপুরে আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এতে লিচু সংরক্ষণ, রফতানি এবং কৃষকের আয়—সবই বাড়বে। একইভাবে কাঠারিভোগ চাল রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন।

তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন করা হবে। কৃষিপণ্যের অপচয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা হবে। দিনাজপুরকে আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কৃষকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক কৃষককে একটি করে কার্ড দেয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজ শর্তে ঋণ, সার ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাবেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধে সরকারি উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান।

গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হবে।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

এর আগে নীলফামারীর জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারে করে বিরামপুরে পৌঁছান তারেক রহমান। তার আগমনে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সকাল ১১টার পর থেকেই সভাস্থলে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর খানসামায় জিয়া সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর এ প্রথম দিনাজপুরে এলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

বিএনপি মুখে এক, কাজে আরেক: নাহিদ ইসলাম
রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
তারেক রহমানকে ’সম্মানজনক অভ্যর্থনা’ দেয়া বার্তা ভারতের
প্যারোলে মুক্তি, স্বামীকে শেষ বিদায় দীপু মনির
পাকিস্তান হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী গুঁড়িয়ে দিলো দিল্লি
মির্জা ফখরুলের আবেগঘন ‘জিন্দাবাদ’ পোস্ট, সারজিসের মন্তব্য
সরকারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টি বেশি-ডপলার জনমত জরিপ
বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
ব্রাজিলে বাস-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২৩
গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা কাউকে বলবেন না-জুলাই শহীদের বাবাকে চিকিৎসক
কোলকাতা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির ৪ জনই একই পরিবারের
হান্নান মাসউদের এমপি পদ নিয়ে রিট
বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি
এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহে সংকট
যৌনপল্লি যশোরে এইচআইভি ঝুঁকি বাড়লেও সুরক্ষায় ঘাটতি
ট্রাম্প বাড়াবাড়ি করলে রক্ষা পাবে না ইউরোপও: ইরান
সপরিবারে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় নেতা
পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মুক্ত হচ্ছেন নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতারা!