ছয় আসনে চমক, এনসিপির নতুন রাজনৈতিক বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এ ভোটে নানা রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এবার ছয়টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।
এনসিপির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। রংপুর-৪ আসনে জয় পেয়েছেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন। কুমিল্লা-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। নোয়াখালী-৬ আসনে জয়লাভ করেছেন যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ। এছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আব্দুল্লাহ আল আমিন বিজয়ী হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপির জন্য এ ছয়টি আসন প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। সীমিত সাংগঠনিক কাঠামো ও স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও তারা যেসব এলাকায় জয় পেয়েছে, সেখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলে। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ ছিলো ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিলো ৮৩ জন, যার মধ্যে দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির প্রার্থীসংখ্যা ছিলো ২৯১ জন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে কোনও প্রার্থী দেয়নি।
সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচন শেষ হয়েছে। আর ছয় আসনে জয় পেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের সম্ভাবনার জানান দিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























