ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে বাবর ও আজহার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর খালাস পেয়েই তারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা-৪) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তার ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোটের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।
বাবরের রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হলো ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ওপর হামলায় বাবরকে অভিযুক্ত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে বিএনপি দাবি করে, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাসিনার পতনের পর ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন।
অন্যদিকে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন তিনি, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ মার্কায় ভোট পাওয়া মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট।
এটিএম আজহার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে আলবদর বাহিনী পরিচালনা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পান। পরে ২০২৫ সালের ২৭ মে সর্বোচ্চ আদালতের রিভিউ শুনানির পর খালাস পান।
জয়ী হওয়ার পর এটিএম আজহার বলেন, এ বিজয় আমার নয়, জনগণের। ভোটাররা আমার প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি নেতাকর্মীদেরও নির্দেশ দেন ভোট না দেয়া মানুষদের সঙ্গে কখনও খারাপ আচরণ না করতে, যাতে ভবিষ্যতে তারা আবারও ভোট দিতে পারে।
এ দুই নেতা দীর্ঘসময় কারাগারে থাকার পর সংসদে ফিরে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় লিখছেন।
সবার দেশ/কেএম




























