দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি
নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াত আমিরের নিন্দা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মী, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতের নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর যারা রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি তিনি ও তার দল দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। নিরীহ নাগরিক ও ভোটারদের ওপর হামলাকে তিনি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে জাতি সদ্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সে জাতির বুকে ভয়ভীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনও স্থান নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত। জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের মানুষ আর কোনো স্বৈরাচার বা দলীয় ছত্রছায়ায় অন্যায় মেনে নেবে না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করার ওপরও জোর দেন তিনি।
দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। ছবি, ভিডিওসহ প্রমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে গণমাধ্যমে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন তিনি।
আসন্ন সরকারের প্রতিও বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, বরং এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। সে আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তার দল শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে এ অবস্থানকে দুর্বলতা মনে না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেয়া হবে না।
সবার দেশ/কেএম




























