চাঁদা দাবির অভিযোগ
মেঘনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মোহাম্মদ মহসিন মিয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো বলে অভিযোগ করেছেন আহত এ বিএনপি নেতা।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার তুলাতলি বাজারের অটোস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত হুসাইন মোহাম্মদ মহসিন মিয়া (৪৯) মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মেঘনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে আসামি করা হয়েছে উপজেলার টিটিরচর গ্রামের কাদির (৩৫), ফারুক, মো. কবির (৩৫) ও দেলোয়ার (৩৮)কে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে মামলার সাক্ষী মো. শফিক মিয়ার অনুরোধে একটি সালিশে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন মহসিন। তুলাতলি বাজারের অটোস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা অভিযুক্তরা ও আরও কয়েকজন তার পথরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় হামলাকারীদের হাতে ধারালো ছুরি, হকিস্টিক ও লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিলো। তারা মহসিনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠিপেটা করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মহসিনের শার্টের পকেট থেকে ৯ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যায়।
হামলার পর মহসিনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
হুসাইন মোহাম্মদ মহসিন অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ আগস্ট দুপুরে কাদির ও ফারুক তার বাড়িতে গিয়ে সানরাইজ শিপিং করপোরেশন লিমিটেডের জায়গায় বালু ভরাটের কাজ করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করেন। তিনি তাদের জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনও কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন।
মহসিনের ভাষ্য, এ কথা বলার পর কাদির ও ফারুক উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে মারধরের সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
তিনি বলেন, রোববার তাকে একা পেয়ে কাদির, ফারুক, কবির ও দেলোয়ারসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজন হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালান। একপর্যায়ে পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন। ফোনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি ও আমার ভাই কিছুই জানি না। হুসাইন মোহাম্মদ মহসিন আমার মামা হন। শুনেছি কে বা কারা তাকে মারধর করেছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























