8যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
‘ঋণের চাপে আত্মহত্যা, ঋণ করেই চল্লিশা পালন’
ঋণের ভারে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার পর তার পরিবার আবারও ঋণ করে চল্লিশা পালন করেছে। এ ঘটনাকে ধর্মীয় অজ্ঞতা ও দ্বীনি শিক্ষার অভাবের নির্মম চিত্র বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ঋণের ভারে যিনি আত্মহত্যা করলেন, তার চল্লিশা আবার ঋণ করে পালন করা হলো। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, দ্বীনি শিক্ষার অভাব কতটা মারাত্মক হতে পারে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম একটি যৌক্তিক ও প্রাকৃতিক ধর্ম। ইসলামে যে আর্থিক ইবাদতগুলো আবশ্যক করা হয়েছে, সেগুলো কেবল সামর্থ্যবানদের জন্য। কিন্তু সমাজে চল্লিশা নামের যে কুসংস্কার ঢুকেছে, সেটাকে অনেক এলাকায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক ধরা হয়। এমনকি ঋণ কিংবা জমি বিক্রি করেও এটি পালন করতে হয়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, অন্যান্য দলিল-প্রমাণ একপাশে সরিয়ে রাখলেও শুধু এটুকুই প্রমাণ করে চল্লিশা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্তঃসারশূন্য। আল্লাহর বিধান আর মানুষের বানানো নিয়মের মধ্যে পার্থক্য এখানেই।
শায়খ আহমাদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোকটি ঋণে জর্জরিত হয়ে মারা গেছেন, অথচ তার চল্লিশার খরচও জোগাড় হলো ঋণ করে। আজকাল সুদবিহীন ঋণ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিশপ্ত সুদ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে দরিদ্রকে আরও নিঃস্ব করছে আর সুদি মহাজনদের করছে আরও বিত্তশালী। এ ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ঋণের ছোবলে জীবনের ওপর কতটা অন্ধকার নেমে এলে কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে? এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে এবং প্রতিবারই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দ্বীনের চর্চা, ইসলামী অনুশাসন ও মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত সুখ কখনো পাওয়া যাবে না।
সবার দেশ/কেএম




























