২০১৮ সালের নিউইয়র্কের ফুটেজ ব্যবহার
ভিডিওগুলো ফেক! প্রচার করছেন শেখ!
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ভারতে পলাতক হাসিনার কথিত ‘দিল্লিতে প্রকাশ্য উপস্থিতি’ নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সত্যতা খতিয়ে দেখে জানা গেছে, ভিডিওটি আসলে পুরোনো। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে—এটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ধারণ করা ফুটেজ, যা মিথ্যাভাবে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ধারণ করা সাম্প্রতিক দৃশ্য বলে প্রচার করা হচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক ও এক্স-এ (টুইটার) ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেয়া শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রকাশ্যে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে তাকে ফুল ও ব্যানার হাতে থাকা কিছু মানুষের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়।
তবে স্বাধীন অনুসন্ধান সংস্থা রিউমর স্ক্যানার টিম ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধান করে দেখেছে, এটি আসলে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের একটি পুরোনো দৃশ্য। ‘Sadeq Sibli’ এবং ‘Ifjal Chowdhury’ নামের দুটি ফেসবুক প্রোফাইলে সেদিনই একই ভিডিওর ক্লিপ ও ছবি পোস্ট করা হয়েছিলো, যা ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আরেকটি প্রোফাইল ‘MG Mawla’-তে প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিলো—এটি জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে শেখ হাসিনার বিদায়কালীন মুহূর্ত, যা নিউইয়র্কে ধারণ করা হয়।
ছবি ও ভিডিও মিলিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—শেখ হাসিনার পরিধেয় পোশাক, পেছনের ভবনের গঠন, পাশে থাকা প্রটোকল কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের পোশাক ও চেহারা—সবকিছুই ২০১৮ সালের ফুটেজের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে।
এছাড়া, ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনেও উল্লেখ ছিলো, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। পরদিন ‘দৈনিক যুগান্তর’ জানায়, ১ অক্টোবর সকালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
অর্থাৎ, সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার দিল্লিতে প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও পুরোনো। এটি ভারতের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ধারণ করা একটি বিদায় অনুষ্ঠানের ফুটেজ, যা ভুল তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রিউমর স্ক্যানার টিম ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের যাচাই অনুযায়ী—ভিডিওটির কোনো অংশই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি সাত বছর আগের আন্তর্জাতিক সফরের দৃশ্য পুনরায় সম্পাদনা করে ছড়ানো হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























