’একজনই সব নষ্ট করেছে’— ভারতীয় খেলোয়াড়কে ইঙ্গিত আফ্রিদির
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসে (ডব্লুসিএল) ভারত-পাকিস্তান মহারণের অপেক্ষায় ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু ভারতীয় দলের পাঁচ খেলোয়াড় পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকেরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন শহীদ আফ্রিদি।
রোববার (২০ জুলাই) বার্মিংহামের এজবাস্টনে এ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। ভারত চ্যাম্পিয়নস দলের শিখর ধাওয়ান, হরভজন সিং, ইউসুফ পাঠান, ইরফান পাঠান ও সুরেশ রায়না পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে না চাওয়ায় ম্যাচটি মাঠে গড়ায়নি।
আফ্রিদি দাবি করেছেন, এসব খেলোয়াড় শেষ মুহূর্তে ম্যাচ বর্জন করেছেন এবং এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল এক জনের। যদিও তিনি নাম বলেননি, তবে তার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলেছে শিখর ধাওয়ানের দিকে। আফ্রিদি বলেছেন, আমরা বন্ধুত্ব, ক্রিকেট আর সংলাপের জন্য এসেছি। কিন্তু একটা বাজে লোক সবকিছু নষ্ট করে দিল।
খোদ আয়োজকেরা জানিয়েছে, ধাওয়ানই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর বাকিরাও একই অবস্থান নেন।
এর আগে এপ্রিল মাসে কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধাওয়ান ও আফ্রিদির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। ডব্লুসিএলের ম্যাচ বাতিলের আগে ধাওয়ান ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানান, তিনি ১১ মে-তেই আয়োজকদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন না।
আফ্রিদির দাবি, ভারতীয় দল অনুশীলনে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে সবকিছু পাল্টে যায়। তিনি বলেন, যদি তারা খেলতেই না চায়, তাহলে আগেই জানানো উচিত ছিল। এখানে এসে অনুশীলন করার পর ম্যাচ বর্জন শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে।
আফ্রিদি আরও বলেন, খেলাধুলা বন্ধুত্বের মাধ্যম, সেখানে রাজনীতি টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক। একজন খেলোয়াড় তার দেশের হয়ে সম্মান বয়ে আনতে পারে, লজ্জা নয়।
ম্যাচ বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার আবদুর রউফ খানও। তিনি বলেন, ভারতীয়রা বাইরে বলছে তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলে না, অথচ আড়ালে পাকিস্তানিদের সঙ্গে ঘোরে, কেনাকাটা করে। এটা ভণ্ডামি।
ডব্লুসিএলে ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও খেলছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয়দের ম্যাচ বর্জনের ফলে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে ২ পয়েন্ট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মালিক কামিল খান।
সেমিফাইনাল বা ফাইনালে যদি আবার ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, তখন কী হবে? উত্তরে কামিল খান বলেন, সেমিফাইনালে হলে তারা ম্যাচটি এড়িয়ে যাবেন, আর ফাইনাল নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।
সবার দেশ/ এফও




























