তায়কোয়ান্দোতে সাফল্যের গল্প: নাহিদের যাত্রা ঢাকা থেকে বিশ্বমঞ্চে
বাংলাদেশের মার্শাল আর্ট জগতে পরিচিত নাম মো. সাইফুল্লাহ কবির নাহিদ। ঢাকায় বেড়ে ওঠা এই ক্রীড়াবিদ ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে তায়কোয়ান্দোর প্রতি তার ঝোঁকই জীবনকে বদলে দিয়েছে। অল্প বয়সে এ খেলায় যুক্ত হয়ে তিনি শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের মুহূর্ত
নাহিদের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত ছিলো ২০১৬ সালের ১২তম দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণ। এছাড়া তিনি কোরিয়া কাপ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপ, কাঠমান্ডু ইন্টারন্যাশনাল তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপ, ভুটান ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় লড়েছেন। ২০১৪ সালে কোরিয়ান অ্যাম্বাসেডর কাপ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি পদক জিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন।
জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়েছেন কুক্কিওন কাপ, জাতীয় তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা এবং ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব প্রতিযোগিতাই তরুণ ক্রীড়াবিদদের আত্মপ্রকাশের বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
খেলোয়াড় থেকে কোচ
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নাহিদ নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন কোচ এবং পরামর্শদাতা হিসেবে। ২০২১ এবং ২০২২ সালে তিনি ট্রাস্ট ব্যাংক ন্যাশনাল তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপ ও জেলা তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মতে, এসব অভিজ্ঞতা আজকের নাহিদকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফেডারেশনের বোর্ড সদস্য ও গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর
বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের বোর্ড সদস্য হিসেবে নাহিদের দায়িত্ব এখন নীতি প্রণয়ন, ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে। গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি বিশ্ব তায়কোয়ান্দো সম্প্রদায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করছেন।
মার্কিন অভিজ্ঞতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর নাহিদের কোচিং অভিজ্ঞতায় এসেছে বৈচিত্র্য। তিনি জানান, বাংলাদেশে যেখানে প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াবিদ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য ছিলো, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষা, ফিটনেস এবং মানসিক শৃঙ্খলার জন্য তায়কোয়ান্দো শিখছে। তাই তিনি পাঠদানের কৌশলকে সে অনুযায়ী মানিয়ে নিয়েছেন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা
নাহিদের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব তায়কোয়ান্দো স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। এটি হবে শুধু একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয়, বরং ব্যক্তিগত উন্নয়নের জায়গা। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি চালু করতে চান, যাতে দুই দেশের ক্রীড়াবিদরা একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে।
পরামর্শ তরুণদের জন্য
তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে নাহিদের পরামর্শ—
শেখার দিকে মনোযোগ দিন, শুধু জেতার দিকে নয়। তায়কোয়ান্দো চরিত্র, শৃঙ্খলা এবং মানসিক শক্তি গড়ে তোলে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে এটি আপনাকে শুধু খেলাধুলায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের গর্ব
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হিসেবে দেখেন। নাহিদের ভাষায়, প্রতিবার আমি ইউনিফর্ম পরি বা ডোজোতে পা রাখি, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার দায়িত্ব মনে করিয়ে দেয়।
সবার দেশ/কেএম




























