ইজারাদারের জামানত থেকে কাটা হবে অর্থ
মেট্রোরেলের নিচে পশুর হাট, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা
রাজধানীর উত্তরায় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতির পুরো অর্থ ইজারাদারের জমা রাখা জামানত থেকে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ডিএনসিসির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাট বসানোর কারণে উত্তরা সেন্টার মেট্রোস্টেশনের আশপাশের গাছপালা, সৌন্দর্যবর্ধনমূলক অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হাট শেষ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কারে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে সিটি করপোরেশনকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গাছপালা ও সবুজায়নের আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া নিরাপত্তা বেড়া বা ফেন্সিংয়ের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকার। হাট-পরবর্তী ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, শ্রমিক মজুরি, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহারে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
জানা গেছে, চলতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরার দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনার ইজারা পায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদার নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়ক, ফুটপাত এবং সৌন্দর্যবর্ধনমূলক এলাকায় হাটের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন।
এর ফলে স্টেশনের নিচে থাকা ফুলের বাগান, গাছপালা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইজারাদারকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি। বরং তিনি ওই স্থানকে ইজারাভুক্ত এলাকা বলে দাবি করেছিলেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ডিএনসিসি। মেট্রোস্টেশনের নিচে নতুন করে ফুল ও বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও শেষ করা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসকের দফতরে পাঠানো হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ইজারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ইজারাদারের জামানত থেকে ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ কেটে রাখা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























