হরমুজে শত্রু দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ইরানের
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি–এর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। প্রস্তাবিত আইনে ইসরায়েলসহ ইরান ঘোষিত ‘শত্রু’ দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি-বাবাই জানিয়েছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ইরান যেসব দেশকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের যেকোনও সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ এ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্য দেশগুলোর জাহাজ ইরানের অনুমতি ও নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ পেতে পারে।
আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক শর্ত আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী বা চলমান সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাইলে ‘যুদ্ধক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। সে অর্থ জমা হবে ইরানের প্রস্তাবিত ‘পারস্য উপসাগর পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল’-এ।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আগের মতো ‘স্বাভাবিক’ নৌ চলাচল আর ফিরে আসবে না। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের কৌশলগত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো। ফলে নতুন আইন কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতোমধ্যে ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি ‘হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ অনুমোদন করেছে। এখন এটি পার্লামেন্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটাভুটি এবং পরে গার্ডিয়ান কাউন্সিল–এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের এ উদ্যোগ ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করার অংশ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























