ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বললো চীন
ইরানের বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক মোতায়েন বাড়িয়ে যে লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ আরোপ করেছে, তা ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’। তার ভাষায়, এ পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নাজুক হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে।
চীনের এ প্রতিক্রিয়া আসে এমন এক সময়ে, যখন সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি বন্দরগামী ও ইরানি বন্দর ত্যাগকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা এখন পুরোপুরি তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন তাদের শর্ত স্পষ্ট করেছে—বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকাতে কঠোর যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপস করবে না।
অন্যদিকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি থেমে যায়নি। রয়টার্স-উদ্ধৃত শিপিং ডেটা অনুযায়ী, মঙ্গলবার একটি চীনা-সম্পৃক্ত ট্যাংকার মার্কিন অবরোধ অগ্রাহ্য করে প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা এ অবরোধের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এ জলপথে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























