রাস্তায় রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধের বার্তা জোরালো করছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে শক্তি প্রদর্শনের নতুন অধ্যায় খুলেছে ইরান। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী সমাবেশে প্রকাশ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার দৃশ্যমান বার্তা দিচ্ছে তেহরান।
রাজধানীর একটি প্রধান চত্বরে আয়োজিত রাতের সমাবেশে ‘গদর’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ‘ডেথ টু আমেরিকা’ স্লোগান দেন এবং আইআরজিসির কমান্ডারমাজিদ মুসাভিকে প্রশংসা করে তেল আবিব লক্ষ্য করে হামলার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র জনবহুল এলাকা, আবাসিক অঞ্চল ও ব্যস্ত সড়কের পাশেই প্রদর্শন করা হচ্ছে—যা কেবল অভ্যন্তরীণ জনমতকে উদ্দীপ্ত করার কৌশলই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও একটি সরাসরি বার্তা।
তেহরানের আরেকটি বড় চত্বরে আলাদাভাবে ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে দক্ষিণাঞ্চলের সাংস্কৃতিক শহর শিরাজ, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ এবং পশ্চিম-কেন্দ্রীয় প্রদেশের জাঞ্জানেও একই ধরনের প্রদর্শনী হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রতিদিনের এসব সমাবেশ আসলে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল—যার লক্ষ্য একদিকে দেশীয় জনমতকে সংহত করা, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে রাখা।
সব মিলিয়ে, রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্র নামিয়ে ইরান স্পষ্ট করে দিচ্ছে—সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন জনসমাবেশ, প্রচারযুদ্ধ এবং প্রতীকী শক্তি প্রদর্শনেরও এক বহুমাত্রিক লড়াই।
সূত্র : বিবিসি।
সবার দেশ/কেএম




























