Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৪, ২২ এপ্রিল ২০২৬

টালমাটাল মিত্রতা—মার্কিন সমর্থন হারানোর শঙ্কায় ইসরায়েল

টালমাটাল মিত্রতা—মার্কিন সমর্থন হারানোর শঙ্কায় ইসরায়েল
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাওয়াকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছে ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’ (আইএনএসএস)। তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে—ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও আর্থিক সমর্থন আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে না; বরং জনমতের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে এ সম্পর্ক।

প্রতিবেদনটি তুলে ধরেছে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা: যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ এখন ইসরায়েলকে ইতিবাচক নয়, বরং নেতিবাচক চোখে দেখছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের দৃষ্টিতে ইসরায়েল নেতিবাচক—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মে, যেখানে বিরূপ মনোভাব প্রায় প্রাধান্যশীল হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিভাজনও এখানে স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের নীতির সমালোচনায় সোচ্চার, তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেও আগের মতো একতরফা সমর্থন আর নেই। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলপন্থী হিসেবে পরিচিত ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের তরুণ অংশেও সমর্থন কমছে—যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সংকেত।

এ জনমত পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গাজা পরিস্থিতি এবং চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা। সমালোচকদের একটি বড় অংশ মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিক স্বার্থে সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করেছেন—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, মার্কিন ইহুদিদের মধ্যেও আগের মতো অন্ধ সমর্থন নেই। জে স্ট্রিটের জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ইহুদি এখন শর্তহীন সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বিপক্ষে। এটি ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা, কারণ ঐতিহাসিকভাবে এ গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী নীতির শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করেছে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব পাস হয়নি, তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার বিরোধিতা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, ধীরে ধীরে নীতিগত পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

আইএনএসএস সতর্ক করে বলছে, ইসরায়েল যদি তার বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু দশকের কৌশলগত সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ১৯৪৮ সালের পর থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা পাওয়া এ মিত্রতা নড়বড়ে হলে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

সব মিলিয়ে, বার্তাটি স্পষ্ট—শুধু সামরিক শক্তি নয়, জনমতের যুদ্ধেও পিছিয়ে পড়ছে ইসরায়েল। আর এ যুদ্ধ হেরে গেলে, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্রের কাছ থেকেই।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা