উত্তেজনার পর অবসান
রামেক চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, আশ্বাসে ফিরলো সেবা
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা কাজে ফেরার ঘোষণা দেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, যে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো ঘটনার সূত্রপাত—সেখানে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিলো না। তারা জানান, রোগীকে আইসিইউতে নেয়ার প্রয়োজন ছিলো এবং সে অনুযায়ী সিরিয়ালও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে সময়মতো স্থান পাওয়া যায়নি। ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক একসঙ্গে একাধিক সংকটাপন্ন রোগী সামলাতে গিয়ে চাপে ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার রাতে, যখন জুলিয়ারা বেগম (৫০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর তার দুই ছেলে—সেনাসদস্য সোহেল আলী ও জয় আলী—চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়ান। চিকিৎসকদের অভিযোগ, এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ ওঠে, চিকিৎসকরাও দুই ভাইকে মারধর করেছেন।
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। পরে দুই ভাইকে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জয় আলীকে আদালতে পাঠানো হলেও তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে জানাজায় অংশ নেন। অপরদিকে সোহেল আলীকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকেই তিনি মায়ের জানাজায় যোগ দেন।
এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চার দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে যান। তাদের দাবির মধ্যে ছিলো—ওয়ার্ডে মিড-লেভেল চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়ন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেয়ায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, ধারণক্ষমতার তুলনায় বহু বেশি রোগী এখানে ভর্তি থাকেন, অথচ ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ২৬২ জন। এ সীমিত জনবল নিয়ে তারা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে, এক মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসা ব্যবস্থা, জনবল সংকট ও নিরাপত্তা—এই তিনটি ইস্যুই আবার সামনে চলে এসেছে। আপাতত কর্মবিরতি শেষ হলেও, মূল সংকটগুলো কতটা সমাধান হবে—সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।
সবার দেশ/কেএম




























