হুতিদের শক্তি কোথায়?
বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধেও হুতি থেকে পিছু হটলো যুক্তরাষ্ট্র!
লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মানদেব প্রণালির প্রবেশপথের পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তায় শক্তিশালী হয়ে ওঠা হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ পরিচালনা করেছিলো। ইয়েমেনে আট শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েও হুতিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যেতে হয় ওয়াশিংটনকে। ফলে ওই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
মোখা ও পেরিমের নিয়ন্ত্রণ
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রাভিযান অনেককেই বিস্মিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখলের দাবি করে হুতিরা। এত দিন বন্দরটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো।
শুক্রবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপিকে জানান, হুতি বাহিনী পেরিম দ্বীপও দখল করেছে। ময়উন নামেও পরিচিত এ দ্বীপটি বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরব মোখা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাব আল-মানদেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার সরু নৌপথ। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর একদিকে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার বাণিজ্যপথ, অন্যদিকে আরব উপদ্বীপ ও আফ্রিকার সংযোগ।
এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য লোহিত সাগরের নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাব আল-মানদেব ঘিরে হুতিদের প্রভাব বৃদ্ধি বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
কারা এই হুতি?
হুতিরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী। রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে সংগঠনটির উত্থান হলেও আন্তর্জাতিকভাবে বড় পরিসরে আলোচনায় আসে ২০১৪ সালে। সে বছর তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মনসুর হাদিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।
২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। পশ্চিমা দেশগুলোও বিভিন্নভাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেয়। ব্যাপক বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েও হুতিদের পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলতে থাকে।
গাজা যুদ্ধের পর বদলে যায় হিসাব
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এর পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল, যাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয়।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
গাজায় প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুতিরা জাহাজে হামলা বন্ধ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে তাদের ভূমিকাও আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ইরানের হয়ে কেনো লড়ছে হুতিরা
ইরান ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে তেহরানের অনুরোধে হুতিরা সক্রিয় হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
হুতিদের প্রধান কৌশলগত সক্ষমতার একটি হলো লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব অঞ্চলে নৌ চলাচলে চাপ সৃষ্টি করা। জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে বড় জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের মাধ্যমেও তারা নৌ চলাচল ব্যাহত করতে পারে।
ফলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে গেলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে হুতিরা। এতে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা ও রসদ সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
ইরানের সামরিক সহায়তায় শক্তিশালী হুতিরা
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি হুতিদের কাছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
১৩ জুলাই তেহরান থেকে মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইটে আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পৌঁছায় বলে চারটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সূত্রের মধ্যে দুই ইরানি কর্মকর্তা, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের একজন তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রয়েছেন।
তাদের দাবি, লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ইরানের এ পদক্ষেপ। বাব আল-মানদেব অঞ্চলে হুতিদের প্রভাব বৃদ্ধিকে তেহরানের সে কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেনো পিছু হটেছিলো যুক্তরাষ্ট্র
২০২৫ সালের বসন্তে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ শুরু করেন।
প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ইয়েমেনের আট শতাধিক স্থানে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপক বিমান হামলা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরও হুতিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা যায়নি।
এর অন্যতম কারণ ছিলো হুতিদের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি, বিচ্ছিন্ন ও বিকেন্দ্রীভূত সামরিক কাঠামো এবং ইরানের সমর্থন। মার্কিন হামলার মধ্যেও হুতিরা তাদের হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
বরং দীর্ঘ সংঘাতের ফলে সংগঠনটির আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। বাণিজ্যিক জাহাজের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও তাদের হামলার হুমকির মধ্যে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত অভিযান শুরুর প্রায় দুই মাসের মাথায় ৬ মে ট্রাম্প হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা বন্ধ করার বিনিময়ে হুতিদের কাছ থেকে মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি নেয়।
ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধবিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিলো ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন। হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার সময় ইসরায়েলকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
চুক্তির পরও হুতিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইসরায়েল ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দর ও সানা বিমানবন্দরে হামলা চালায়।
ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতিকে ইয়েমেন সংকট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করলেও হুতি নেতৃত্ব এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরে। হুতি নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতি চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তাদের সম্পূর্ণভাবে দমনে ব্যর্থ হওয়ার পর যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিপরীতে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক শক্তির চেয়েও বড় কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পেছনে শুধু হুতিদের সামরিক সক্ষমতা নয়, ইয়েমেনের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
লোহিত সাগরের সংকটকে মূলত সামরিক শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক রাজনীতি ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি—এমন সমালোচনাও রয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ভুলবশত একটি বার্তা আদান-প্রদানকারী অ্যাপের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রশাসনিক দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে।
এর আগেও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে হুতিদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ পরিচালনা করা হয়েছিলো। কিন্তু সেটিও হুতিদের স্থায়ীভাবে দমনে সফল হয়নি।
সৌদি আরবের উদ্বেগ
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন দেশগুলোর একটি সৌদি আরব। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব দিয়ে তেল পরিবহনের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অন্তত দুবার ফোন করেছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটন আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়। বরং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি।
এদিকে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম এ পাইপলাইন সৌদি তেল রফতানির বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহনের ওপর চাপ বাড়লে এ পাইপলাইনের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়বে।
হুতিদের শক্তি কোথায়?
হুতিদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরিমাণ নয়; বরং ভূগোল, বিকেন্দ্রীভূত সামরিক কাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং ইরানের সহায়তার সমন্বয়।
বাব আল-মানদেবের মতো সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে অবস্থান তাদের কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে। অল্প খরচের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিপুল ব্যয়ের যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা তাদের যুদ্ধকৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এ অসম যুদ্ধের হিসাবই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুতিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়, অথচ হুতিদের একটি তুলনামূলক সস্তা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত করার মতো আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
ফলে বিপুল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও কৌশলগতভাবে জটিল। আর এ কারণেই ১০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ের অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথ বেছে নিতে হয়েছিলো ওয়াশিংটনকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মোখা ও পেরিমের নিয়ন্ত্রণের দাবি সত্য হলে হুতিদের হাতে লোহিত সাগরের আরও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা চলে যাবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নৌপথের ওপরও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, ওয়াই নেট গ্লোবাল ও মিডল ইস্ট মনিটর
সবার দেশ/কেএম




























