মহুয়া মৈত্রের বিস্ফোরক দাবি
‘পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের ৭১% মুসলিম, ৫১% নারী’
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৭১ শতাংশ মুসলিম এবং ৫১ শতাংশ নারী বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ আয়োজিত প্রতীকী ‘জনসমক্ষে অভিশংসন’ কর্মসূচিতে মহুয়া মৈত্র এ অভিযোগ করেন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) দায়ী করেন তিনি। পুরো প্রক্রিয়াকে ‘ম্যাকিয়াভেলীয় ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন।
জ্ঞানেশ কুমারকে ‘পুতুল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তার ভূমিকার কারণে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ইন্ডিয়া জোটের প্রতীকী অভিশংসন কর্মসূচি
ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপকভাবে নাম বাদ দেয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিরোধী দলগুলো। এতে রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আলোচনার সমাপ্তি টানেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দিতে সহায়তা করছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
প্রতীকী প্রস্তাবে মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে ভোট চুরিতে সহায়তা, ভোটারদের নাম বাদ দেয়া, ছয় নম্বর ফর্মে বেআইনি পরিবর্তন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ।
তবে এ কর্মসূচি ছিলো রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ। এটি সংসদের কোনও আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়।
রাহুলের অভিযোগ, বিজেপির পাল্টা বক্তব্য
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে এভাবে নাম বাদ দেয়ার ঘটনা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। তার দাবি, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা নির্বাচনে বিরোধী দল ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।
এ ঘটনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধী। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে বিরোধীদের এ কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি। দলটির প্রবীণ সংসদ সদস্য রবিশঙ্কর প্রসাদ প্রতীকী অভিশংসন সভার সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর অবশ্য কর্মসূচির আলোচনাকে মর্যাদাপূর্ণ ও ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের নির্ধারিত মহাসমাবেশেও বিরোধীদের মধ্যে একই ধরনের ঐক্য বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মহাসমাবেশে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























