ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিলো বলেই আপনারা মন্ত্রী: হাসনাত
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কড়া সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থীকে আজ ‘ফার্মের মুরগি’ বলা হচ্ছে, সে শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নেমেছিলো বলেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং তিনি আজ শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পথযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা এমন একজন শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছি, যিনি স্ট্যান্ডবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ। তিনি সব জায়গায় গিয়ে বলেন, নকল হবে না। কিন্তু ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের স্ট্যান্ডবাজি আর চলবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, হাঁটুসমান ও কোথাও কোথাও বুকসমান পানির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে ভুল থাকার কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একজন পরীক্ষার্থী যখন প্রশ্নের ভুলের কারণে উত্তর মিলাতে পারে না, তখন তার মানসিক অবস্থা কী হয়, তা কি শিক্ষামন্ত্রী বুঝতে পারেন? এত বড় ঘটনার পরও তিনি একবারও দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি আরও বলেন,
শিক্ষামন্ত্রী! আপনি আজ যাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলছেন, সে ফার্মের মুরগিরাই রাস্তায় নেমেছিলো বলেই আপনি আজ শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। সে শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন করেছিল বলেই কেউ শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন, কেউ লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো গিনিপিগ নয়। কিছুদিন পরপর নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ওপর পরীক্ষা চালানো যাবে না। যাদের সন্তান বিদেশে লেখাপড়া করে, তারা দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করুন। তা না হলে তারা আবার রাস্তায় নামলে আপনাদের অস্তিত্ব টিকবে না। শিক্ষার্থীদের অর্ধবেলার আন্দোলনেই আপনারা বুঝে গেছেন, আপনাদের অবস্থান কতটা দুর্বল।
স্থানীয় রাজনীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখানে বাবা এমপি, আর ছেলে চাঁদাবাজি করে। থানায় গিয়ে মুচলেকা দিতে হয়। সারা দেশে গ্যাসের সংকট, অথচ সোনারগাঁয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। চুনা কারখানাগুলোও অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সোনারগাঁয়ের নদী ও খাল দখল করা হয়েছে। ব্যবসায়ী, হকার ও রিকশাচালকদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, দুইশ টাকা আয় করলে পঞ্চাশ টাকা ছাত্রদল-যুবদলকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। স্থানীয় এমপিদেরও চাঁদা দিতে হয়। এ চাঁদাবাজির বাংলাদেশ আমরা চাইনি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে বেশি দিন চাঁদাবাজি করে টিকে থাকতে পারবেন না। আবার যদি জুলাইয়ের মতো গণঅভ্যুত্থান হয়, তাহলে পালানোর জায়গা পাবেন না। হাসিনার জন্য ভারত ছিলো, কিন্তু আপনাদের জন্য ভারতেও জায়গা হবে না, পাকিস্তানেও হবে না। এ দেশেই থাকতে হবে। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গেলে জনগণই বিচার করবে।
সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
আমরা শুধু হাসিনার পরিবর্তন চাইনি, হাসিনা ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থি।
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন প্রতিমন্ত্রী হজে চলে গেছেন। একই সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ বন্যায় কষ্ট পাচ্ছে, আর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরে ব্যস্ত ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম থেকে বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হলেও বন্যা মোকাবিলায় জনপ্রতি ৩০ টাকারও কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,
তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির কথা নাকি সংবিধানে নেই। যদি তাই হয়, তাহলে ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনও কোনও সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো ২০২৯ সালে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংবিধান ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে সরকার আজ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।
পথসভা শেষে জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি তুহিন মাহমুদকে আসন্ন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি তুহিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং উপজেলা এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























