গুজবে কাঁপলো উত্তরা
রিকশাচালক ‘হত্যা’ গুজবে শপিং মলে ভাঙচুর, গ্রেফতার ১২
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়ার জেরে একটি শপিং মলে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মল-এ এ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শপিং মলের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে এক রিকশাচালকের কথা-কাটাকাটি থেকে প্রথমে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে তাকে মলের ভেতরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন একটি গুজব দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
গুজব ছড়িয়ে পড়তেই বিপুল সংখ্যক রিকশাচালক সেখানে জড়ো হন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে শপিং মলের ভেতরে ও সামনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক দফা চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি উত্তেজিত রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে সোমবার সকালেও এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. রফিক আহমেদ জানান, বিপণিবিতানের সামনে রিকশা দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিলো।
তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওই রিকশাচালক সুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে চলে যান। মূলত ভিত্তিহীন একটি হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শপিং মলের মালিক পক্ষ থেকেও আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি ছিলো, তাদের এক সহকর্মীকে মলের ভেতরে আটকে রেখে হত্যা করা হয়েছে। তবে কথিত ওই নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। ফলে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি পুরোপুরি গুজবের ওপর ভিত্তি করেই ঘটেছে।
সবার দেশ/কেএম




























