‘শহীদের সন্তান’ দাবি নিয়ে বিতর্ক
ভাইরাল জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত!
জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দেয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। নির্বাচনী হলফনামা এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তার সংসদীয় বক্তব্যের অসঙ্গতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এ সংসদ সদস্য গত রোববার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন,
আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
তবে সংসদ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। অর্থাৎ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পরে তার জন্ম হয়েছে। এছাড়া হলফনামায় তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আব্দুল কাদের সৈয়দী ও মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত আছেন এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। ফলে সংসদে দেওয়া ‘বাবা শহীদ’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অসামঞ্জস্য তুলে ধরে সমালোচনা করেন। আবার কেউ কেউ এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলেও মন্তব্য করেন।
সমালোচনার মুখে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজের বক্তব্যে ভুল থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন,
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি জানান, সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দাফতরিক প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
এদিকে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত আব্দুল মুনতাকিম রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের ঘটনায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্বশীলতা ও তথ্য উপস্থাপনের সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























