মাসুকার দাফনে আবেগে ভাসলেন কোয়ান্টামের কর্মীরা
’যেন এক পবিত্র আত্মার গোসল করাচ্ছিলাম’
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিয় শিক্ষিকা মাসুকা বেগমের শেষ বিদায়ে গোসল ও কাফন সম্পন্ন করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দাফনকর্মীরা। নিজের জীবন বাজি রেখে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হওয়া এ মানবিক শিক্ষিকার মরদেহের পাশে থাকতে পারা ছিল কোয়ান্টামের কর্মীদের জন্য এক অনন্য অনুভূতির মুহূর্ত।
মঙ্গলবার সকালে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে মরদেহ আনা হয় রাজধানীর কাকরাইলের কোয়ান্টাম হাম্মামে। প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া এ শরীরটিকেও যত্নের ছোঁয়ায় গোসল করানো হয়, যেন তিনি জীবনের শেষ বেলাতেও সম্মানের ছায়ায় থাকেন।
গোসলপ্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেয়া দাফনকর্মী মহসীনা ফেরদৌসী বলেন,আমাদের মনে হচ্ছিলো আমরা যেন এক পবিত্র আত্মার গোসল করাচ্ছি। এতগুলো শিশুকে আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা এ মানুষটি নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দি। গোসল, ওজু, কাফনের প্রতিটি ধাপে যেন ভেতর থেকে দোয়া আসছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় আমরা কেঁদেছি— আবারও প্রার্থনা করেছি।

শিক্ষিকা মাসুকা বেগম ছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি শাখার ইংরেজি শিক্ষক (বাংলা ভার্সন)। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্লাস চলাকালে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আচমকা তাদের ক্লাসরুমে আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় সবকিছু। শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে মাসুকা নিজেই দগ্ধ হন। ওই রাতেই মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে পাশের বেডে থাকা আরেক সহকর্মীকে বলে যান— তাকে যেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোহাগপুর গ্রামে বোনের বাড়িতে দাফন করা হয়।
তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাদ আসর সোহাগপুর গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
কোয়ান্টাম দাফন কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবীরা একই রাতে মাইলস্টোনের আরেক শহীদ— ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ১৪ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ শামীমের গোসল ও কাফনও সম্পন্ন করেন।
কোয়ান্টামের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন মৃত ব্যক্তির শেষ বিদায় হোক যত্ন ও মর্যাদার সঙ্গে। যেকোনও সময়, যেকোনও পরিস্থিতিতে আমরা প্রস্তুত থাকি মরহুমের জন্য শেষ সম্মান জানাতে।
এ শোকাবহ ঘটনার মাঝে শিক্ষিকা মাসুকা বেগমের আত্মত্যাগ আজ স্মরণীয় হয়ে থাকলো এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি হয়ে।
সবার দেশ/এফও




























