একটি বিমান দুর্ঘটনা, এক বন্ধু আর একটি ব্যথাতুর অনুরোধ
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা শুধু বর্তমানের বেদনা নয়, অনেকে তা দেখে ফিরে গেছেন অতীতের আরও এক করুণ ঘটনার স্মৃতিতে। তেমনই একজন বনানী লিও ক্লাবের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট লেখিকা সেলিনা হোসেনের কন্যা ফারিয়া লারার বন্ধু, যিনি সামাজিক সংগঠনের দীর্ঘ পথচলায় ছিলেন তার সহযাত্রী।
১৯৮৯ সালের কথা। লায়ন্স ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-এর বার্ষিক আয়োজন ‘সুন্দরবন '৮৯’ সফরে বনানী লিও ক্লাব ও উত্তরা লিও ক্লাবের তরুণ সদস্যরা একসঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন। সে সফরে ছিলেন ফারিয়া লারা ও তার বোন লাজিনা মুনা। ক্লাবের সদস্যরা তাকে ঘিরে গেয়েছিলেন হাস্যরসাত্মক প্যারোডি গান—
সব সখিরে পার করিতে নেবো আনা আনা, লারা তোমার বেলা নেব, লারা তোমার কানের সোনা....।
সে প্রাণোচ্ছ্বল ফারিয়া লারা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। বেসামরিক বিমান চালনার একজন প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকার আকাশে পোস্তগোলায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে কন্ট্রোলে পাঠানো তার বার্তাটি ছিল হৃদয়বিদারক—‘আমি আর ২-৩ মিনিট বাঁচবো।’
আরও পড়ুন <<>> ‘যেন এক পবিত্র আত্মার গোসল করাচ্ছিলাম’
মাইলস্টোনে ঘটনার পর সে পুরোনো ক্ষত যেন আবার নতুন হয়ে উঠেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এ ধরনের বিপজ্জনক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পুনরায় প্রাণহানির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রশ্ন উঠেছে—কেন এখনও জনবহুল এলাকায় এরকম ঝুঁকিপূর্ণ অনুশীলন চলছে?
লিও ক্লাবের সাবেক এ সদস্যের আবেগভরা অনুরোধ, এমন মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর না ঘটে। যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, অবহেলা কিংবা গাফিলতি যদি এসব দুর্ঘটনার পেছনে থেকে থাকে, তাহলে তা কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস নয়—কারণ প্রতিটি জীবনই অমূল্য।
দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আর যারা আহত হয়ে লড়ছেন, তাদের জন্য রইলো দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা। আর যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে এটুকুই অনুরোধ—এ ব্যথা যেন আর কোনও হৃদয়ে না ফেরে।
সবার দেশ/কেএম




























