অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপে দেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে
দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পোশাক রফতানি বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ৮০৭ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।
ইইউ’র পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের একই সময়ে বাংলাদেশ ইইউতে ৬৫১ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছিলো।
ইইউ ২৭ দেশের জোটের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এখান থেকেই আসে দেশের মোট পোশাক রফতানির প্রায় ৬০ শতাংশ আয়।
অবশ্য গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে ইইউতে বাংলাদেশি পোশাক রফতানি কমে গিয়েছিলো। ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) রফতানিতে ২.০৬ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়। তবে বছরের শেষ তিন মাসে ঘুরে দাঁড়ায় রফতানি প্রবৃদ্ধি। পুরো বছর শেষে ইইউতে পোশাক রফতানি দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭৭ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইইউ’র মোট পোশাক আমদানিতে ১৪.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে,
- চীনের রফতানি বেড়েছে ২১.৪৯ শতাংশ (৮৩৯ কোটি ডলার)।
- ভারতের ২০.৫৮ শতাংশ (২০১ কোটি ডলার)।
- পাকিস্তানের ২৩.৪২ শতাংশ (১৪২ কোটি ডলার)।
- কম্বোডিয়ার ৩১.৭৮ শতাংশ (১৫৬ কোটি ডলার)।
- ভিয়েতনামের ১৫.৬২ শতাংশ (১৪৮ কোটি ডলার)।
- তবে তুরস্কের রফতানি কমেছে ৫.৪১ শতাংশ।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের ভেতরে নানা সমস্যা তৈরি হয়। অনেক কারখানা ভাঙচুর হয়, গ্যাস সংকট ছিলই। তারপরও রফতানি বেড়েছে, এটা আমাদের সাহস দিয়েছে। তবে সামনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কীভাবে যায়, তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।
বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, ইউরোপীয় বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা ও কৌশল উন্নয়ন জরুরি। ইইউ’র আসন্ন বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হলেও চীন ও ভিয়েতনাম এখনও বড় প্রতিযোগী। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা না থাকলে বাংলাদেশের রফতানি আরও বাড়তো। তবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কৌশলে পরিবর্তন আনতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সবাই।
সবার দেশ/এফএস




























