রমজানে আল-আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেরুজালেমের প্রাক্তন গ্র্যান্ড মুফতি ও সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে বিশেষ করে তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদে প্রবেশে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জানুয়ারির শুরুতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে অবশালোম পেলেদ-এর নিয়োগকে পরিস্থিতি কঠোর করার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। এ পদক্ষেপকে ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির-এর দীর্ঘদিনের কড়াকড়ি নীতির অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি দৈনিক Haaretz মন্তব্য করেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।
সাবরি জানান, ইতিমধ্যে কয়েক ডজন তরুণকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের ক্ষেত্রেও রমজানে কোনো শিথিলতা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে গত বছরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং রোজা পালনকারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সামরিক চেকপয়েন্টে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। অনুমতিপত্র ছাড়া জেরুজালেমে প্রবেশ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ। গত দুই বছরে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ এ ধরনের অনুমতি পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জেরুজালেমের শত শত ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে তারা রমজানকালে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে না পারেন। কিছু নিষেধাজ্ঞা ছয় মাস পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকারের এ পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, ইসলামিক ওয়াকফের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব খর্ব করে স্থাপনাটির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ একতরফাভাবে ইহুদি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে, যদিও ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ নিয়মিতভাবে এ অনুপ্রবেশ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সাবরি আরও অভিযোগ করেন, আল-আকসাকে ঘিরে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে বাড়িঘর ভাঙার অভিযানও বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে মসজিদের আশপাশে। তিনি এ নীতিকে বর্ণবাদী, অন্যায্য ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণ এবং নেতাদের প্রতি জেরুজালেম ও আল-আকসার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা রক্ষা করা যায়।
সবার দেশ/এফএস




























