Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫১, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০০:৫২, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট

বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড

বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন বিস্ফোরক দাবি তুলেছে— এ ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বিডিআরসহ দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্বল করে দেয়া। 

কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, প্রায় ১১ মাসের তদন্তে ২৪৭ জনের সাক্ষ্য, ৬০০ ঘণ্টার ভিডিও জবানবন্দি ও ৮০০-এর বেশি স্থিরচিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পত্রালাপ এবং ৯০৫টি চিঠির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ২১৫টি প্রতিবেদন ও ওয়েব-ইমেইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত ৩১৬টি তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কারা ছিলেন মাস্টারমাইন্ড — সরাসরি নাম বললেন কমিশন প্রধান

মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানের দাবি, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন:

  • শেখ হাসিনা | ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস
  • শেখ সেলিম | জাহাঙ্গীর কবির নানক
  • মির্জা আজম | সাহারা খাতুন
  • মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী (নিরাপত্তা উপদেষ্টা)
  • জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ (তৎকালীন সেনাপ্রধান)
  • মেজর জেনারেল আকবর (প্রাক্তন ডিজিএফআই প্রধান)

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতও এতে জড়িত ছিলো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সেনা অভিযান বন্ধ হয়েছিলো কেনো

সেনা অভিযান না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন — জেনারেল মঈন ভারতের হস্তক্ষেপের ভয় দেখিয়েছিলেন। কমিশন প্রধানের ভাষায়, 

যদি সেনা অভিযানে যাওয়া হতো ভারত এখানে ইন্টারফেয়ার করতো এবং ফিরে যেতো না— এমন ভয় দেখিয়েছিলেন জেনারেল মঈন।

তিনি আরও বলেন, দুই দিনে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিলো।

গোপনে বিদেশি অংশগ্রহণ? ৬৭ ভারতীয় এখনও ‘নিখোঁজ’

তদন্তে বলা হয়, ঘটনার সময় ৯২১ ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর মধ্যে ৬৭ জনের কোনও রেকর্ড আর পাওয়া যায়নি।

কমিশন সরকারকে তাদের সন্ধান ও ভারত সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া ভিডিওসহ একাধিক সাক্ষ্যে দেখা যায়, অনেক হামলাকারী হিন্দিতে কথা বলছিলো। বিদ্রোহে শুধু বিডিআর নয়, বহিরাগতও অংশ নেয়, এবং সে দলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য ছিলো বলেও কমিশনের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ২০০ জনের মিছিলে অংশ নেয়া ২০-২৫ জনের একটি দল সরাসরি বিদ্রোহস্থলে প্রবেশ করে বলেও জানান তিনি।

‘ডাল-ভাত ইস্যু ছিলো শুধু বাহানা’

ডাল-ভাত কর্মসূচি হত্যাকাণ্ডের কারণ কিনা জানতে চাইলে কমিশন প্রধান বলেন — 

তা শুধু নামামাত্র কারণ। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিলো বাহিনী দুর্বল করা এবং ক্ষমতা ধরে রাখা।

এছাড়া তিনি বলেন, বিডিআরের নিজস্ব ৫২টি তদন্ত প্রতিবেদন বিজিবিতে ফেরত দেয়া হয়েছে, সেনাবাহিনীর ছয়টি তদন্ত প্রতিবেদন সেনাবাহিনীকে ফেরত দেয়ার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক প্রতিবেদন পেয়েছিলো।

গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিলো কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা নতুন কাঠামোয় শক্তিশালী করার সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন