ট্রেনে উঠতে না পারার শঙ্কায় যাত্রীরা আগেভাগেই স্টেশনে হাজির
ঈদুল ফিতরের আগের মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ট্রেনে নির্বিঘ্নে ওঠার শঙ্কা এবং নিজের আসন নিশ্চিত করার চাপে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে পৌঁছাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, স্টেশনের পার্কিং এলাকা থেকেই যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ছে। টিকিট কাটা ও পরীক্ষা করতে গিয়ে ট্রেন স্টাফদের সঙ্গে যাত্রীদের চাপা ভিড় তৈরি হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটার জন্য ১–৬ নম্বর কাউন্টারে তিনটি লাইনে দাঁড়িয়ে শতাধিক মানুষ অপেক্ষা করছেন।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে গেটেই দুইটি লাইন চালু রেখে টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগের চেকিং এড়িয়ে যাত্রীরাও অনেককে ফিরে যেতে দেখা গেছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্বে ছিলেন।
প্রধান প্ল্যাটফর্মে ঢুকলে দেখা যায় হাজারো মানুষ ট্রেনে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে এ ভিড় ট্রেনের বিলম্বের কারণে নয়, বরং ট্রেনে উঠতে না পারার আশঙ্কায় আগেভাগে এসে অবস্থান নেয়ার কারণে তৈরি হয়েছে।
চিত্রা এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহ আলম বলেন, গতকালের পরিস্থিতি দেখে মনে ভয় হয়েছিলো, ট্রেনে উঠতে পারবো কি না। তাই আগেভাগে এসেছি। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকলেই দ্রুত উঠে যেতে চাই।

দ্রুতযান এক্সপ্রেসে পঞ্চগড়ের বোদা যাচ্ছেন তিন বন্ধু। আকিব হাসান বলেন, আমরা আগেই টিকিট কেটেছি। একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারায় ভালো লাগছে।
রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোনো ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হয়নি। তবে ট্রেনের কোচগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠে যাওয়ায় কিছুটা চাঞ্চল্য দেখা গেছে। কেউ দৌড়ে ট্রেন ধরার চেষ্টা করছেন, কেউ সফল হয়েছেন, কেউ ব্যর্থ।

যাত্রী মোকাদ্দস আলী বলেন, আমার টিকিট কাটা ছিলো। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য ট্রেন মিস হয়ে গেল। এবার দেখি বাসে যেতে পারি কিনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেন হুইসেল দেয়ার পর প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৪৫ সেকেন্ড অবস্থান করেছে। যাত্রীরা বলছেন, ঈদের আগের এ চাপ এবং ভিড় নিয়মিত ট্রেন যাত্রাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
সবার দেশ/কেএম




























