ক্ষোভে স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ
টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের সরকারি জমিতে শ্রমিক দলের অফিস
টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন–সংলগ্ন সরকারি জায়গা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। স্টেশন প্ল্যাটফর্ম ও রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারের মাঝামাঝি স্থানে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও রেলওয়ে কর্মচারী দলের জেলা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্টেশন এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে দলীয় অফিস স্থাপনের উদ্দেশ্যে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি জায়গা দখলের মাধ্যমে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দেশের বিদ্যমান আইন ও রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন রেলওয়ে জমি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া এমন কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত নেতাকর্মীদের আনাগোনা, সভা-সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশও ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, স্টেশন এলাকা এমনিতেই যাত্রীচাপ ও নিরাপত্তা সংকটে থাকে। সেখানে রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তারা অবিলম্বে এ উদ্যোগ বন্ধ করে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
এদিকে, স্টেশন এলাকায় প্রকাশ্যে সাইনবোর্ড টানানো হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তারা অবৈধভাবে টানানো সাইনবোর্ড অপসারণ এবং রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























