সিসা বার খুলে দিতে তদবির বুশরার স্বামী জাওয়াদের!
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে ও সাবেক ‘চিফ হিট অফিসার’ (সিএইচও) বুশরা আফরিনের স্বামী শরিফ আল জাওয়াদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজধানীর গুলশান-বনানীর সিসা বারগুলো পুনরায় খুলে দেয়ার তদবিরে তার নাম উঠেছে সামনে।
জানা গেছে, শরিফ আল জাওয়াদ রাজধানীর গুলশানের ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার’ নামের একটি সিসা লাউঞ্জের মালিক। পাশাপাশি তার গাড়ি বিক্রির ব্যবসাও রয়েছে — প্রগতি সরণিতে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সাল অটো’ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান থানার একটি দল ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার’ সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালায়। এসময় বিপুল পরিমাণ সিসা, হুক্কা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় পাঁচজনকে।
এরপর থেকেই গুলশান-বনানীর কয়েকটি সিসা বার বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসব বার পুনরায় খুলে দিতে শুরু হয়েছে নানামুখী তদবির। নারকোটিক্স অধিদফতরের ভেতরের কর্মকর্তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপ সামলাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বনানীর ‘সেলসিয়াস’ ও ‘এক্সোটিক’ নামের দুটি সিসা বার পুনরায় চালুর পক্ষে চাপ বাড়ছে। আওয়ামী লীগ আমলে এ দুটি বার রীতিমতো পুলিশ প্রহরায় চলতো। এদের নেপথ্যে ছিলেন ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ছেলে আসিফ মোহাম্মদ নূর। সরকার পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যায় তার প্রতিষ্ঠান দুটি।
তবে সম্প্রতি সেগুলো আবার চালু করার তদবিরে সক্রিয় হয়েছেন ব্যবসায়ী শরিফ আল জাওয়াদ। নারকোটিক্স অধিদফতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছেন।
জাওয়াদ নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন— বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি ও সেলফি দেখিয়ে পরিচয় দেন ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবেও।

বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে তদবিরের অভিযোগ বিষয়ে জানতে বুধবার শরিফ আল জাওয়াদের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।
একইভাবে ‘সেলসিয়াস’ সিসা বারের মালিক আসিফ মোহাম্মদ নূরের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনিও কল রিসিভ করেননি।
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় মাদকমিশ্রিত সিসা ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও রাজনৈতিক তদবিরের দোলাচলে তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না— এমনই মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সবার দেশ/কেএম




























