সাংবাদিক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা
শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পথে আইনের সংস্কার অপরিহার্য
রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন শক্তিশালী করা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
৫ ও ৬ নভেম্বর রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালাটি আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), সহযোগিতায় গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বর্তমান চিত্র
কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের হার ৫০ শতাংশ, আর মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় (৭৭ ও ৭৪ শতাংশ) অনেক কম। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভোটাধিকার, উত্তরাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। নিবন্ধন না থাকলে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও পরিচয়হীন নাগরিকত্বের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিবন্ধন শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এটি দেশের ন্যায্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সুশাসনের মূল ভিত্তি।
আইন ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
বর্তমান আইন অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব পরিবারের ওপর আছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকা ঐচ্ছিক। অথচ দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করে, যা আইন সংশোধনের মাধ্যমে হাসপাতালে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত সুযোগ।

জিএইচএআই বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন,
২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য আইন সংস্কার এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন,
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, নিবন্ধকদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে এবং প্রযুক্তি ও আন্ত-খাত সমন্বয় শক্তিশালী করতে হবে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর মো. মঈন উদ্দিন, জনকণ্ঠের চীফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইন সংশোধন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, যা সিআরভিএস দশকের শতভাগ নিবন্ধন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ১৬.৯ অর্জনে সহায়ক হবে।
সবার দেশ/কেএম




























