Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৫, ৬ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবসের আয়োজনে বক্তারা

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সর্বজনীন করতে আইন সংস্কার অপরিহার্য

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সর্বজনীন করতে আইন সংস্কার অপরিহার্য
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভোটাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের অন্যতম ভিত্তি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন। কিন্তু এখনও দেশে নিবন্ধনের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন— জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন না করলে সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৫ উপলক্ষে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে

ওয়েবিনারে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অথচ বৈশ্বিক গড় যথাক্রমে ৭৭ ও ৭৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ— বিশেষ করে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা— ইতোমধ্যেই প্রায় সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে।

হাসপাতালকেন্দ্রিক নিবন্ধন ব্যবস্থার প্রস্তাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন দ্রুত সংশোধন করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে অগ্রগতি অনেক গুণ বাড়বে। বর্তমানে দেশের ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়— এ তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা গেলে নিবন্ধনের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

তারা বলেন, জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সনদের ভুল সংশোধনের আবেদনের ফি মওকুফ করা, নিবন্ধন তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস প্রস্তুত করাও সময়ের দাবি।

এসডিজি অর্জনে সহায়ক

জিএইচএআই বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, আইন সংস্কারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যেই সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬.৯ অর্জনে— অর্থাৎ সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র প্রদানে— বড় ভূমিকা রাখবে।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু আইন সংস্কার নয়, বাস্তবায়নেও জোর দিতে হবে। নিবন্ধন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো, জনবল ঘাটতি দূর করা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাতে হবে। সব খাতকে একসাথে কাজ করতে হবে।

আলোচনায় সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান। অংশ নেন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন— জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ভিত্তি। তাই আইনগত সংস্কার, প্রযুক্তি-নির্ভর সমন্বিত উদ্যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয়তা ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন