কানাডার অভিবাসন আইনে পরিবর্তন, উদ্বেগে আবেদনকারীরা
কানাডার অভিবাসনব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন ঘিরে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বাসিন্দারা। স্থায়ী বসবাসের আবেদন, দক্ষ কর্মী নির্বাচন এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় অনেককে নিজেদের অভিবাসন পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে।
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) গত ১৬ অক্টোবর ঘোষণা করেছে, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় দক্ষ কর্মী নির্বাচনের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব এবং কানাডায় অর্জিত প্রাসঙ্গিক কর্ম-অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয়া হবে।
নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী চাকরির প্রস্তাবের ভিত্তিতে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন (এলএমআইএ) সনদ ছাড়াই অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব ধরনের চাকরির প্রস্তাব এ সুবিধার আওতায় পড়বে না। সংশ্লিষ্ট পেশা, বেতন ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে আবেদনকারীদের।
কানাডার শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ কর্মী নির্বাচন করাই এ পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য। নির্দিষ্ট পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব এবং কানাডায় অর্জিত প্রাসঙ্গিক কর্ম-অভিজ্ঞতা আবেদনকারীর মূল্যায়নে ভূমিকা রাখবে। তবে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়া মানেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ আইনে পরিণত হওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তে পরিবর্তন এসেছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ জুনের পর কানাডায় প্রথম প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পরে করা কিছু আশ্রয়ের আবেদন শরণার্থী ও অভিবাসন বোর্ডে শুনানির জন্য পাঠানো হবে না। একইভাবে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তের নির্ধারিত প্রবেশপথের বাইরে দিয়ে প্রবেশের ১৪ দিনের বেশি সময় পর করা কিছু আবেদনও এ বিধানের আওতায় পড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপসারণ-পূর্ব ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ থাকতে পারে।
এ ছাড়া, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শরণার্থী আবেদনের অনলাইন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিয়ে কেবল আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করে রেখেছেন, এমন কিছু আবেদনকারীকে নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং আগে দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করতে হতে পারে।
পরিবর্তনগুলো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সব নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। স্থায়ী বাসিন্দা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী, দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী আবেদনকারীদের জন্য পৃথক বিধান ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। ফলে নিজের আবেদন কোন নিয়মের আওতায় পড়ছে, তা জানা জরুরি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কানাডা সরকারের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের প্রভাব বুঝতে সরকারি তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শক বা আইনজীবীর সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের এ সময়ে আবেদনকারীদের জন্য সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
সবার দেশ/কেএম




























