ঝড়ের তাণ্ডবে কানাডায়: বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ, স্কুল-কলেজ বন্ধ
কানাডার নোভা স্কশিয়া প্রদেশে শীতকালীন শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী ও ভেজা তুষারপাতের কারণে প্রদেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এক লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার পুরো প্রদেশে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নোভা স্কশিয়ার অধিকাংশ এলাকায় ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। উঁচু ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে তুষারের পরিমাণ ৩০ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ভারী বরফ ও প্রবল বাতাস একসঙ্গে আঘাত হানায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
নোভা স্কশিয়া পাওয়ার জানিয়েছে, ঝড়ের সঙ্গে আসা ভারী ও ভেজা বরফ বিদ্যুৎ লাইনের ওপর জমে গেছে। অনেক জায়গায় গাছ ও বড় ডাল ভেঙে লাইনের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশজুড়ে এক লাখের বেশি গ্রাহক বর্তমানে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঝড়ের কারণে সড়ক যোগাযোগেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। হ্যালিফ্যাক্স এলাকায় পুলিশ হাইওয়ে ১১৮-এর আউটবাউন্ড লেন এক্সিট ১৩-এর পর থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে একাধিক ভারী ট্রাক আটকে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) চালকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির হাইওয়ে ১০৪ এবং কোলচেস্টার কাউন্টির হাইওয়ে ১০২-এ একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
ঝড়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। ডালহাউজি ইউনিভার্সিটি, মাউন্ট সেন্ট ভিনসেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং সেন্ট মেরিজ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। সেন্ট মেরিজ ও মাউন্ট সেন্ট ভিনসেন্ট ইউনিভার্সিটি উভয়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি নোভা স্কশিয়া কমিউনিটি কলেজের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নোভা স্কশিয়া পাওয়ার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে মাঠে শত শত কর্মী কাজ করছেন। তবে তীব্র তুষারপাত ও বিপজ্জনক সড়ক পরিস্থিতির কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে, যা মেরামত কাজকে ধীরগতির করে তুলছে।
এদিকে ঝড়ের প্রভাবের কারণে কেপ ব্রেটন, অ্যান্টিগোনিশ এবং গাইসবরো কাউন্টির প্রাদেশিক সরকারি দফতরগুলো সোমবার বেলা ১১টার আগে খুলছে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিশেষ বুলেটিনে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষও সতর্ক করে বলেছে, ঝড়ের প্রভাব পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























