জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা
তেল আছে শুধু সংসদে, দেশে নেই: জামায়াত আমির
দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এনার্জিতে এখন হাহাকার চলছে। তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নাই।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেমিনারটির আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। অথচ একই সময়ে কালোবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই এ কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে দু-একজনকে ধরা হয়, কিন্তু মূল সিন্ডিকেট অক্ষতই থেকে যায়। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক রয়েছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, সংসদে যখন মন্ত্রীরা বা সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষ পাম্পে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রতি বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধ হলেও এর অভিঘাত আরও কয়েক মাস স্থায়ী হবে। তাই এখনই অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। অথচ বাংলাদেশে সে রূপান্তরের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট পোষণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা গোষ্ঠীগুলোই জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত এখন লুটেপুটে খাওয়ার জায়গায় পরিণত হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য যে সংস্কার দরকার, তা নানা কারণে আটকে যাচ্ছে।
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, কৃষির বিপর্যয় মানে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বিপর্যয়। কৃষক যদি সময়মতো সেচ, সার ও জ্বালানি না পান, তাহলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে, যার প্রভাব পুরো জাতিকেই বহন করতে হবে।
সংসদের কার্যক্রম নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো সংসদে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ভবিষ্যতে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করেন বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় কৃষি, শিল্প ও পরিবহন—সব খাতেই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























