পিনাকীর বগুড়ার বাড়ির সামনে আগুন, তদন্তে পুলিশ
প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্যের বগুড়ার বাসার সামনে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার তার বাড়ির গেটের সামনে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে পিনাকী ভট্টাচার্য জানান,
গতকাল রাত ২টার দিকে দুজন মুখোশধারী আমার বগুড়ার বাসার সামনের দরজায় আগুন লাগিয়ে দিয়ে যায়। আমার বাড়িতে বৃদ্ধা মা থাকেন, তবু এরা সে মানবিক বোধটুকুও রাখেনি। এটা নিছক আগুন নয়—এটা রাজনৈতিক বার্তা। আমি বগুড়াবাসীর কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা কামনা করছি এবং এ দুর্বৃত্তদের বগুড়ার মাটি থেকে উৎখাতের আহ্বান জানাচ্ছি। আমাকে কোনও হুমকি বা আগুন থামাতে পারবে না। আমার কণ্ঠস্বর থামবে না—ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে জেলা পুলিশের। পরে সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হানের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একইসঙ্গে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হকের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুজন যুবক এসে দরজার সামনে ছোট একটি পলিথিনের টুকরোতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়। তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা মাদকসেবী হতে পারে। ঘটনাস্থলে পোড়া পলিথিনের টুকরোও পাওয়া গেছে। এটি বড় কোনও নাশকতা নয়, তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। ওই বাসার সামনে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানান, ওই দুই যুবক রাতে হেরোইন জাতীয় মাদক সেবন করে দরজার সামনে উপকরণ ফেলে যায় এবং পরে পলিথিনে আগুন লাগিয়ে সরে পড়ে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পিনাকী ভট্টাচার্যের বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা না হলেও আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পিনাকী ভট্টাচার্য তার পোস্টে জানিয়েছেন—যে কোনো ভয়ভীতির পরও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে যাবেন না।
সবার দেশ/কেএম




























