কবরস্থান কমিটির নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপির ২ নেতা
নির্বাচনে উত্তাপ, তবে লক্ষ্য কবরস্থানের নেতৃত্ব—চাটমোহরে আলোচিত হচ্ছে জান্নাতুল বাকি কবরস্থান কমিটির নির্বাচন।
পাবনার চাটমোহরের মুলগ্রাম ইউনিয়নে ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানের নেতৃত্ব কে দেবেন—তা ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তিনটি গ্রাম। সভাপতি পদে ভোট হবে আগামী শনিবার (২৪ মে)। এ নির্বাচন যেন এখন ইউনিয়নের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিএনপির দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থান
এ নির্বাচন শুধু একটি কবরস্থান কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়, বরং এটি স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের বহিঃপ্রকাশ। প্রার্থী হয়েছেন চাটমোহর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম (প্রতীক: চেয়ার) এবং মুলগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস (প্রতীক: ছাতা)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সরব প্রচারণা চলছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার, মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে বাড়ির উঠোন—সবখানে চলছে আলোচনার ঝড়। অনেকেই বলছেন, ‘যেন জাতীয় নির্বাচনের মেজাজ!’
কীভাবে তৈরি হলো নির্বাচন পরিস্থিতি?
কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলছিলো দ্বন্দ্ব। কয়েকজন নেতা নিজেকে যোগ্য দাবি করে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, তিনিই হবেন পরবর্তী সভাপতি। বিষয়টি চরমে পৌঁছালে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ব্যর্থ হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় জনগণ বিষয়টি নিয়ে থানায় যান এবং ওসির মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে আছেন কবরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মতিন মাস্টার। নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হলে ৩০ হাজার টাকা করে জমা দিয়ে দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনেন ও দাখিল করেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরই শুরু হয় পুরোদমে প্রচার-প্রচারণা।
ভোটার তালিকা ও ভোটের পদ্ধতি
মোট ৮০০ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন—তিনটি গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে পুরুষ ভোটার নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ হবে গোপন ব্যালটে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জান্নাতুল বাকি কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই ভোট আয়োজন করা হচ্ছে। এ প্রথমবারের মতো কবরস্থান কমিটির সভাপতি নির্ধারণে হচ্ছে এমন গণভোট, যা স্থানীয় রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
চাটমোহর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, এ নির্বাচন একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানে নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তিনি আরও জানান, যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের অনেকেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বালুদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, আগে এসব কমিটি গোপনে বানানো হতো, এখন আমরা নিজেরা ঠিক করব কে থাকবে। এটা একটা ভালো দৃষ্টান্ত। তবে কিছু প্রবীণ ব্যক্তির মধ্যে শঙ্কাও আছে—তারা বলছেন, ‘রাজনীতি যেন কবরস্থানে না ঢুকে।’
কবরস্থান কমিটির নির্বাচন হলেও এর প্রভাব পড়ছে ইউনিয়নের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। এটা যেমন গ্রামীণ সমাজে গণতন্ত্র চর্চার একটি নতুন দৃষ্টান্ত, তেমনি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর এক বিকল্প পদ্ধতি।
আগামী শনিবারের ফলাফল শুধু একজন সভাপতির নাম ঘোষণা করবে না, বরং স্থানীয় রাজনীতিতে কে কতটা প্রভাব রাখেন—তাও প্রকাশ করবে।
সবার দেশ/কেএম




























