মশাল প্রজ্জ্বলনে উত্তাল তিস্তা অববাহিকা
ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে লাখো জনতার ক্ষোভের আগুন
ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এবং তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে উত্তরবঙ্গ। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর দুই তীরজুড়ে মশাল হাতে লাখো মানুষ একসঙ্গে স্লোগান তুলেছেন— ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’, ‘পানির ন্যায্য হিস্যা চাই—দিতে হবে দিতে হবে’, ‘পানি আগ্রাসন মানি না মানব না।’
লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও রংপুরের ১১টি স্থানে একযোগে অনুষ্ঠিত এ ঐতিহাসিক মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি তিস্তা আন্দোলনের দ্বিতীয় দফা কর্মসূচি হিসেবে পালিত হয়।

লালমনিরহাট জেলার তিস্তা রেলওয়ে সেতুর চরপয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বলেন,
তিস্তা শুধু নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের প্রাণ। ভারতের আগ্রাসনে সে প্রাণ শুকিয়ে যাচ্ছে। এ আন্দোলন এখন বাঁচার লড়াই।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া তিস্তা পাড়ের মানুষদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছে:
- তিস্তা আমার মা, ভারতের হতে দিবো না
- জিয়ার মতো কোদাল ধরো, তিস্তা নদী খনন করো।

স্থানীয় কৃষক, জেলে ও দিনমজুরেরা অভিযোগ করেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজে পানি আটকে রাখার ফলে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ফলে পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নদী নির্ভর লাখো মানুষের জীবিকা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ছাড়ায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা, আবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় পানির তীব্র সংকট—এ দ্বৈত বিপর্যয়ে জর্জরিত গোটা উত্তরাঞ্চল।
নীলফামারীর তিস্তা পাড়ের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন,
আগে এ নদী থেকেই আমাদের ফসল, মাছ, জীবন চলত। এখন খরায় জমি ফেটে চৌচির, মাঝিদের নৌকা আর চলে না।
তিস্তা নদীবেষ্টিত ৫ জেলার মানুষের দাবি—
দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে গোটা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, সেচ ব্যবস্থায় আসবে স্থায়ী সমাধান, এবং তিস্তা নদীর জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার হবে।

তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো তিস্তা নিয়ে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কাজের অগ্রগতি নেই। জনগণ এখন দৃশ্যমান অগ্রগতি চায়।
স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বলেন, চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরু হলে নদীতে সারা বছর পানি থাকবে, কর্মসংস্থান হবে, কৃষক ও জেলেরা আবার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
তিস্তা অববাহিকার মানুষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি দ্রুত তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু না হয়, তবে আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে উত্তরাঞ্চল।
তিস্তা এখন শুধু একটি নদী নয়—এটি হয়ে উঠেছে বঞ্চিত মানুষের জীবনের প্রতীক, আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতিধ্বনি।
সবার দেশ/কেএম




























