শেল্টার হোম থেকে মুক্তি, নতুন করে ফেরার পথচলা
বেনাপোলে ফিরলো ভারতে পাচার হওয়া ৩০ কিশোর–কিশোরী
ভারতে পাচার হয়ে আটক থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরলো ৩০ বাংলাদেশি কিশোর–কিশোরী। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসাদের মধ্যে রয়েছে ১৯ জন কিশোর এবং ১১ জন কিশোরী।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রোগ্রাম অফিসার রেখা বিশ্বাস জানিয়েছেন, ফিরিয়ে আনা সকল কিশোর–কিশোরীর গল্প ভিন্ন হলেও প্রায় সবার অভিজ্ঞতাই একই—‘ভালো কাজের লোভে’ দালালচক্র বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে তাদের ভারতে পাচার করে। পরে কাজের সন্ধানে ঘোরাঘুরির সময় তারা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের হাতে আটক হয়, আদালতে সোপর্দ হয় এবং সাজা ভোগ করতে হয়।
সাজার মেয়াদ শেষ হলে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের হেফাজতে নিয়ে শেল্টার হোমে রাখে। এরপর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়।

ফিরে আসা কিশোরদের অনেকের জীবনে এখনো অনিশ্চয়তা। আবদুল্লা (১২), রাজু শেখ (১০), শামীম (১৬) এবং রুনা (১২) জানায়—তাদের মা–বাবা এখনও ভারতের কারাগারে বন্দি। শেল্টার হোমের সহায়তায় পরিবারের ঠিকানা সংগ্রহ করে তারা একা দেশে ফিরেছে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার তানিয়া (১১), খুলনার রাবিয়া (১০) ও অহনা (৮) উদ্বেগ জানায়—তাদের মায়েরা কবে মুক্ত হবেন তারা জানে না।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার পর বেনাপোল পোর্ট থানার কাছে তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। পোর্ট থানার ওসি মামুন শাহ জানান, কিশোর–কিশোরীদের দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনটি মানবাধিকার সংগঠনের নিকট রাতেই হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফিরে আসা শিশু–কিশোরদের পুনর্বাসন, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সবার দেশ/কেএম




























