পাঁচ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়ার ইঙ্গিত, বাড়াচ্ছে উত্তাপ
যশোরের চার আসনে ‘বিএনপি বনাম বিএনপি’ লড়াই
যশোরের ছয়টি আসনের রাজনীতি এখন বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সরগরম। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ইঙ্গিত—ছয়টির মধ্যে পাঁচ আসনে দেয়া প্রাথমিক মনোনয়ন অপরিবর্তিত থাকবে। তবুও মনোনয়ন বাতিল ও পুনর্বিন্যাসের দাবিতে চার আসনে চলছে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও গণসংযোগ। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচনে জিততে হলে আগে দলের ভেতরের বিভাজন কাটানো জরুরি—যা এখন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
জেলা নেতাদের দাবি, চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং সবাই ‘ধানের শীষ’-এর পক্ষেই কাজ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। চারটি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন চলছে।
যশোর-১ (শার্শা): তৃপ্তির বিরুদ্ধে তিন নেতার বিদ্রোহ
এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু—এ তিন নেতা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন। তারা ইতোমধ্যে সভা-সমাবেশ করেছেন এবং এখনো একই দাবিতে অটল।
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): সবচেয়ে তুমুল বিরোধ
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চারজন। দল প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলাতানাকে। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিজানুর রহমান খান, জহুরুল ইসলাম ও আব্দুস সামাদ নিপুন। তারা তিনজন একাট্টা হয়ে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করে সাবিরা সুলাতানার মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলেছেন।
এ আসনকে ঘিরে যশোরের রাজনীতি এখন সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত।
যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া): আইয়ুবের বিরুদ্ধে মাঠে ফারাজী
এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন টিএস আইয়ুব। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আবেদন করেছেন অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী। তিনি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশ করেছেন এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।
যশোর-৬ (কেশবপুর): শ্রাবণকে নিয়ে আপত্তি
কেশবপুর আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ।
যশোর-৫ (মণিরামপুর): শরিকদল–বিএনপি দ্বন্দ্ব
এ আসনে এখনও বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মরহুম মুফতি ওয়াক্কাস পূর্বে এ আসনে বিএনপি জোটের হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এবার তার ছেলে রশিদ বিন ওয়াক্কাস মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশ তাকে প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদ ইকবাল প্রতিদিন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি তুলছেন—রশিদকে মনোনয়ন দিলে আসনটি হারাবে বিএনপি।
ভেতরকার বিভাজন নিয়ে তৃণমূলের উদ্বেগ
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, যাদের কখনো মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো না, তাদের প্রার্থী করলে সেটা দলের জন্য ‘অমঙ্গল’। এ কারণেই তারা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। তাদের আশঙ্কা—অপ্রতুল গ্রহণযোগ্যতার প্রার্থীদের রেখে দিলে বিএনপি কয়েকটি আসনে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
জেলা বিএনপির অবস্থান: মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে সব ঠিক হয়ে যাবে
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বিএনপি বড় দল, যোগ্য নেতা অনেক। সবাই মনোনয়ন পাবেন না—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। কোনও বিরোধিতা করা যাবে না।
জেলা সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুও একই কথা বলেছেন,
প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে কেউ কেউ দাবি করছেন। কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রকাশের পর সবাই একসঙ্গে মাঠে নামবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ
বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন—যশোরের যেসব নেতাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় তারাই থাকবেন। অন্যদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে মাঠপর্যায়ের অসন্তোষ মিটিয়েও দলকে একই প্রার্থীর পক্ষে সংগঠিত করাই এখন বিএনপির বড় পরীক্ষা।
সবার দেশ/কেএম




























