হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা
ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশটির রাজধানী মাস্কট থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ওমান উপসাগরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জাহাজটির ওয়াটারলাইনের কাছাকাছি অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্রিটেনভিত্তিক ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে একটি ‘বাহ্যিক বিস্ফোরণ’ বলে মনে হচ্ছে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কোনও হামলার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন বা মাস্টার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ফলে কিছু জ্বালানি তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত জাহাজের মূল কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি এবং ক্রুরাও নিরাপদে রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নৌ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কাজ করছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনও সামরিক বা নাশকতামূলক ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশের জলসীমায় মাইন পেতে রেখেছে, যাতে কৌশলগতভাবে নৌ চলাচল ব্যাহত করা যায়। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী রাতভর বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত নৌযান লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এরপরই ওমান উপসাগরে ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে আসে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























