পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারি
হাসিনা–টিউলিপ–আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলম মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ তারিখ ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি একই আদালত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। ওইদিন আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন।
এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে ৮ জানুয়ারি আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয় এবং তা শেষ হওয়ার পর রায়ের দিন ঘোষণা করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী আনিছুর রহমান মিঞা, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), রাজউকের সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তি ও শীর্ষ আমলাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে আলোচিত এই মামলার রায় ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারির রায়ের দিকে এখন সবার নজর।
সবার দেশ/কেএম




























