ধানমন্ডি প্লট বরাদ্দ জালিয়াতি
প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড
প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনাকে তিনটি পৃথক মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন একে একে রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় ৪০ মিনিট রায় পাঠের পর আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
মামলার অপর আসামি জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকারকে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন গ্রেফতার একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। শুনানিতে দুদকের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ কী ছিলো?
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ধানমন্ডির সুধাসদনে শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ওয়াজেদ মিয়ার নামে থাকা একটি প্লটের তথ্য গোপন করে মিথ্যা হলফনামার মাধ্যমে আরেকটি প্লট গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এতে রাজউক বিধিমালা লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়াও প্লট অনুমোদন আদায়ে সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তা ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দেয়ার বিষয়টিও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে দুদক। একই ধরনের অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা চলে।
তিনজনই পলাতক, রায়ও অনুপস্থিতিতে
তিন মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন এবং আসামিপক্ষের অবর্তমানে সব প্রক্রিয়া শেষে আদালত ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত তারিখে আজ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। পলাতক থাকায় তিনজনের বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
আরও মামলার রায় সামনে
শুধু তিন মামলায় দণ্ডই নয়, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও প্লট বরাদ্দ জালিয়াতির আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সে মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১ ডিসেম্বর।
সবার দেশ/কেএম




























