আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৬
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গভীর রাতে দেশটির একাধিক স্থানে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।
তালেবান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত কাম এয়ার নামের একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ কোম্পানির জ্বালানি তেলের ডিপো। একই সময়ে রাজধানী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলের নানগারহার প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে।
কাবুলের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মুরসেলিন হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গভীর রাতে বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। চারপাশ ধুলায় ঢেকে যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই সন্তানদের আতঙ্কিত চিৎকার শোনা যায়। তিনি জানান, এ হামলায় তার বোন এবং দুই শিশুসন্তান আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে তেলের ডিপোতে হামলা হয়েছে সেখান থেকে বেসরকারি উড়োজাহাজ এবং জাতিসংঘের উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সরবরাহ পায়।
মুজাহিদ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের এ হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
এর আগে গত মাসেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত ঘিরে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রথমে ইসলামাবাদ হামলা চালায় এবং পরে কাবুল পাল্টা জবাব দেয়। ওই সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরে চীনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়েছিলো।
তবে নতুন করে বৃহস্পতিবার রাতে হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশের চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। কান্দাহারের তেলের ডিপোতে হামলার বিষয়টি তারা স্বীকার করলেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য দেয়া হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























